1. info@www.monolok.net : মনোলোক :
       
March 27, 2026, 12:42 pm

ইরান ইস্যুতে সুর নরম ট্রাম্পের : আগ্রাসনের দায়ভার দিলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রীর ওপর

  • Update Time : মঙ্গলবার, মার্চ ২৪, ২০২৬
  • 18 Time View

বিশেষ প্রতিবেদক, মেম্ফিস | ২৪ মার্চ, ২০২৬

​মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত রণাঙ্গনে নাটকীয় মোড়। ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক আগ্রাসন নিয়ে বিশ্বজুড়ে তীব্র সমালোচনার মুখে এবার সুর নরম করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুদ্ধের পুরো দায়ভার কৌশলে নিজের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের ওপর চাপিয়ে দিয়ে নতুন আলোচনার জন্ম দিলেন তিনি।

​সোমবার (২৩ মার্চ) টেনেসি অঙ্গরাজ্যের মেম্ফিসে ‘মেম্ফিস সেফ টাস্ক ফোর্স’-এর গোলটেবিল বৈঠকে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথকে পাশে বসিয়ে ট্রাম্প বলেন, “আমি হেগসেথ এবং জেনারেল ড্যান কেইনকে পরামর্শের জন্য ডেকেছিলাম। ইরান ৪৭ বছর ধরে বৈশ্বিক অস্থিতিশীলতার মূলে রয়েছে এবং তারা পারমাণবিক অস্ত্রের দ্বারপ্রান্তে। তখনই হেগসেথ প্রথম মুখ খুলেছিলেন এবং এই কঠোর পদক্ষেপের প্রস্তাব দিয়েছিলেন।”

আলোচনার টেবিলে নতুন আশা

ট্রাম্পের এই মন্তব্যকে বিশ্লেষকরা দেখছেন যুদ্ধের তীব্রতা কমানোর একটি কৌশল হিসেবে। গোলটেবিল বৈঠকে তিনি কিছু পরিকল্পিত হামলা, বিশেষ করে বিদ্যুৎকেন্দ্রের ওপর আক্রমণ সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন। তবে ইরানকে পরমাণু শক্তিধর হতে না দেওয়ার বিষয়ে তার আপসহীন অবস্থান এখনো স্পষ্ট।

ভিতরের খবর: হোয়াইট হাউসে মতভেদ

ব্লুমবার্গের রিপোর্ট অনুযায়ী, যুদ্ধ নিয়ে মার্কিন প্রশাসনের অন্দরেও চলছে প্রবল দ্বন্দ্ব। একদিকে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং প্রভাবশালী মিডিয়া মোগল রুপার্ট মারডক যুদ্ধের পক্ষে জোর তৎপরতা চালিয়েছেন। অন্যদিকে, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং চিফ অফ স্টাফ সুজি ওয়াইলস শুরু থেকেই এই যুদ্ধের বিরুদ্ধে বা সন্দিহান ছিলেন। এমনকি, যুদ্ধ নিয়ে মতভেদের জের ধরে গত সপ্তাহে ন্যাশনাল কাউন্টারটেররিজম সেন্টারের সাবেক প্রধান জো কেন্ট পদত্যাগ করেন।

প্রেক্ষাপট

ফেব্রুয়ারির শেষভাগ থেকে শুরু হওয়া এই সংকটে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি যৌথ বাহিনী ইরানের সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে হাজারও বিমান হামলা চালিয়েছে। পাল্টা জবাব হিসেবে ইরানও আঞ্চলিক মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে হামলা ও হরমুজ প্রণালী বন্ধের হুমকি দিয়ে আসছিল। তবে ট্রাম্পের সোমবারের এই “শান্তি আলোচনা”র ইঙ্গিত এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দিকে দায় ঠেলে দেওয়ার ঘটনা ইঙ্গিত দিচ্ছে, ওয়াশিংটন হয়তো এখন সামরিক সংঘাতের চেয়ে কূটনৈতিক পথেই সমস্যার সমাধান খুঁজছে।

​এখন দেখার বিষয়, ট্রাম্পের এই নতুন চাল মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে শান্তি ফেরাতে পারে, নাকি এটি কেবল একটি সাময়িক বিরতি মাত্র।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© All rights reserved © 2019 Breaking News
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট