
নিজস্ব প্রতিবেদক, মনোলোক | ফেনী
বিশ্বাস আর আস্থার ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে বৈবাহিক সম্পর্ক। কিন্তু সেই বিশ্বাসের ভিত যখন ধূলিসাৎ হয়ে যায়, তখন তা সমাজ ও পরিবারকে স্তব্ধ করে দেয়। ফেনীর বালিগাঁও ইউনিয়নে এমনই এক রুদ্ধশ্বাস ও নজিরবিহীন ঘটনা ঘটেছে, যা এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। প্রবাস ফেরত স্বামীর সন্দেহের জেরে করানো ডিএনএ (DNA) টেস্টের রিপোর্টে উঠে এসেছে স্ত্রী লিমা আক্তারের সাথে স্থানীয় প্রায় ৪৭ জন পুরুষের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ।
সন্দেহের শুরু থেকে প্রবাসে থাকাকালীন
২০১৫ সালে বালিগাঁও ইউনিয়নের নুরুল আলম ও লিমা আক্তারের পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের প্রথম কয়েক বছর দাম্পত্য জীবন সুখের ছিল, কোলজুড়ে আসে একটি পুত্র সন্তানও। তবে ২০২০ সাল থেকে সিঙ্গাপুর প্রবাসী নুরুল আলমের মনে খটকা শুরু হয়। স্ত্রীর হঠাৎ বদলে যাওয়া আচরণ আর রহস্যময় চলাফেরা দূর পরবাসে থাকা স্বামীর মনে সন্দেহের বীজ বপন করে।
গোপনে ডিএনএ টেস্ট ও শিউরে ওঠা রিপোর্ট
দীর্ঘ পাঁচ বছর পর, গত ১২ মার্চ ২০২৬ তারিখে নুরুল আলম দেশে ফেরেন। স্ত্রীর পরকীয়ার প্রমাণ হাতে নাতে পেতে তিনি এক অভিনব ও বিজ্ঞানসম্মত পথ বেছে নেন। কৌশলে স্ত্রীর শরীরের নমুনা সংগ্রহ করে তিনি ডিএনএ টেস্টের জন্য পাঠান।
পরীক্ষার রিপোর্ট হাতে আসার পর যেন আকাশ ভেঙে পড়ে নুরুল আলমের মাথায়। ল্যাব রিপোর্টে লিমার শরীরে এলাকার ৪৭ জন পুরুষের ডিএনএ আলামত পাওয়া যায়। অভিযুক্তদের তালিকায় রয়েছেন:
সিএনজি ও অটো চালক
মুদি ও কসমেটিক দোকানদার
বিকাশ এজেন্টের দোকানদারসহ বিভিন্ন পেশার স্থানীয় ব্যক্তিরা।
”আমি কল্পনাও করতে পারিনি বিশ্বাসের মর্যাদা এভাবে ভুলুণ্ঠিত হবে। ৫ বছর পর দেশে ফিরে সত্যটা জানতে চেয়েছিলাম, কিন্তু যা জানলাম তা কোনো সুস্থ মানুষের পক্ষে মেনে নেওয়া সম্ভব নয়।” > — হতাশ কণ্ঠে ব্যক্ত করেন ভুক্তভোগী নুরুল আলম।
আগামী দিনের সিদ্ধান্ত
এই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় পুরো এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। ৪৭ জনের আলামত পাওয়া যাওয়ার ঘটনাটি কেবল একটি পরকীয়া নয়, বরং একটি বড় সামাজিক অবক্ষয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে। নুরুল আলম জানিয়েছেন, এই অকল্পনীয় প্রতারণার আইনগত বা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তিনি কী নেবেন, তা নিয়ে এখনো ভেবে দেখছেন। বিস্তারিত সিদ্ধান্ত পরবর্তীতে জানাবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
মনোলোক বিশ্লেষণ:
পরিবার ও সমাজের মূল ভিত্তি হলো বিশ্বাস। প্রবাসীদের রক্তজল করা পরিশ্রমের আড়ালে যখন ঘরের ভেতরে এমন অনৈতিক কর্মকাণ্ডের জাল বিস্তার করে, তখন তা কেবল একটি সংসার ধ্বংস করে না, বরং সামাজিক অস্থিরতাও বাড়িয়ে দেয়। এই ঘটনাটি আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় অপরাধ এবং অনৈতিকতা ধরার এক বিরল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
আরও তথ্যের জন্য মনোলোক-এর সাথেই থাকুন।