ক্রিকেটের নেশা ছেড়ে ব্যাডমিন্টনে বিশ্বজয়: বিশ্বনাথের তানভীরের অবিশ্বাস্য উত্থান
নিজস্ব প্রতিবেদক, মনোলোক | ১১ এপ্রিল, ২০২৬
শৈশবে ডাকনাম ছিল ক্রিকেটকে ঘিরে। দিন কাটত ব্যাট-বল আর বাইশ গজের স্বপ্নে। কিন্তু নিয়তি তাকে টেনে নিয়ে গেল শাটল আর র্যাকেটের কোর্টে। আজ তিনি কেবল সিলেটের বিশ্বনাথের গর্ব নন, বরং লাল-সবুজের পতাকাবাহী এক আন্তর্জাতিক ধ্রুবতারা। তিনি আবদুল জাহির তানভীর—যিনি সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত থেকে গ্রহণ করেছেন জাতীয় ক্রীড়া সম্মাননা ও স্বর্ণপদক।
স্বপ্ন বদলের গল্প
বিশ্বনাথ উপজেলার অলংকারি ইউনিয়নের ‘টুকের কান্দি’ গ্রামের সাধারণ এক পরিবারে জন্ম তানভীরের। চার ভাই-বোনের মধ্যে দ্বিতীয় এই তরুণের শুরুটা ছিল আর দশটা বাঙালি ছেলের মতোই ক্রিকেট পাগল। তবে দিনের শেষে রাতের আলোয় চলত ব্যাডমিন্টন খেলা। একসময় বুঝতে পারলেন, দুই নৌকায় পা দিয়ে লক্ষ্যভেদ সম্ভব নয়। বড় ভাই যুক্তরাজ্য প্রবাসী আবদুল বাছিতের অনুপ্রেরণায় ক্রিকেট ছেড়ে পুরোপুরি মনোনিবেশ করেন ব্যাডমিন্টনে।
কঠোর পরিশ্রমের সিঁড়ি
সাফল্য কোনো জাদুর ছোঁয়ায় আসেনি। সিলেটের রিকাবীবাজারে টানা পাঁচ বছর প্রশিক্ষক মঞ্জুর আল মামুনের অধীনে ঘাম ঝরিয়েছেন তিনি। এরপর ২০১৪ সাল থেকে আবুল মাল আবদুল মুহিত ক্রীড়া কমপ্লেক্সে শুরু হয় তার পেশাদার অনুশীলনের অধ্যায়। তার সেই একাগ্রতার ফল আসতে শুরু করে দ্রুতই:
-
২০২৩: বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন।
-
২০২৪: জাতীয় পর্যায়ে রানার্স-আপ।
-
২০২৫: ঢাকায় ২৫টি দেশের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত ‘সানরাইজ বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল সিরিজ’-এ চ্যাম্পিয়ন হয়ে স্বর্ণপদক জয়।
“বিদেশের মাটিতে যখন দেশের জার্সি গায়ে খেলি, সেই অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। তখন শুধু মনে হয় দেশের জন্য নিজেকে উজাড় করে দিই।” — আবদুল জাহির তানভীর
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পদচিহ্ন
ইতোমধ্যেই অস্ট্রেলিয়া, থাইল্যান্ড, দুবাই ও ভারতে দেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন তানভীর। তার পরবর্তী লক্ষ্য এখন কানাডা। বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের ব্যাডমিন্টনকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে চান এই শাটলার।
প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে স্বীকৃতি
সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত থেকে ‘আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাফল্য অর্জনকারী ক্রীড়াবিদ’ হিসেবে সম্মাননা গ্রহণ করেন তিনি। বর্তমান সরকারের ক্রীড়াবান্ধব উদ্যোগের প্রশংসা করে তানভীর বলেন,
“বর্তমান সরকার আমাদের নতুন আশার আলো দেখিয়েছে। সম্মাননার পাশাপাশি ভাতার ব্যবস্থাও আমাদের উৎসাহ দ্বিগুণ করে দিয়েছে। সরকার পাশে থাকলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আমরা আরও বড় সাফল্য আনব।”
তরুণদের জন্য বার্তা
সফলতার মূলমন্ত্র হিসেবে তানভীর তিনটি বিষয়কে গুরুত্ব দেন: ১. পরিবারের নিরঙ্কুশ সমর্থন। ২. কঠোর পরিশ্রম। ৩. নিয়মিত সঠিক প্রশিক্ষণ।
ক্রিকেট মাঠের সেই ছোট্ট ছেলেটি আজ দেশের ব্যাডমিন্টন অঙ্গনের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। তানভীরের এই জয়যাত্রা বিশ্বনাথ তথা পুরো বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের জন্য এক অনন্য অনুপ্রেরণা।






















































































































































































































































































































































































































































































































































































Leave a Reply