মনোলোক | রাজশাহী
ভালবাসার টানে মানুষ কী না করে! কিন্তু সেই ভালবাসাই যদি হয় সর্বনাশের কারণ, তবে তার চেয়ে বড় ট্র্যাজেডি আর কিছু হতে পারে না। রাজশাহীর বাঘা উপজেলায় এমনই এক হৃদয়বিদারক ও চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে, যেখানে প্রেমের মায়াজালে পড়ে নিজের লিঙ্গ পরিচয় বিসর্জন দিয়েও শেষ রক্ষা পাননি ফিরোজ (পরিবর্তিত নাম) নামের এক যুবক।
অভিযোগ উঠেছে, মনিগ্রাম এলাকার বাসিন্দা বিপ্লব হোসেন দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের সুযোগ নিয়ে ফিরোজের সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। বিয়ের অটুট প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিপ্লব তাকে উৎসাহিত করেন লিঙ্গ পরিবর্তনের জন্য। ফিরোজের দাবি অনুযায়ী, বিপ্লবের কথামতোই ২০২৪ সালে ভারতে গিয়ে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তিনি নারীত্ব গ্রহণ করেন।
ফিরোজের অভিযোগ, শুধুমাত্র শারীরিক রূপান্তরই নয়, এই সম্পর্কের খাতিরে বিপ্লব তার কাছ থেকে ধাপে ধাপে প্রায় ৫০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। দেশে ফিরে যখন তিনি ঘর বাঁধার স্বপ্ন দেখছিলেন, তখনই তার মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে। তিনি জানতে পারেন, যার জন্য তিনি নিজের সত্তা বদলে ফেলেছেন, সেই বিপ্লব অন্য এক নারীকে বিয়ে করে সংসার করছেন।
”আমি ওকে বিশ্বাস করে নিজের সর্বস্ব দিয়েছিলাম। ও আমাকে মেয়ে হতে বাধ্য করল, আর এখন যখন আমি ওর পরিচয়ে বাঁচতে চাইছি, তখন ও আমাকে অস্বীকার করছে।” — ক্ষোভ ও দুঃখে ভেঙে পড়া ফিরোজ।
বর্তমানে ফিরোজ কেবল সর্বস্বান্তই নন, বরং প্রশাসনিকভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেছেন। তার দাবি, বিপ্লব তাকে জোরপূর্বক স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। এই ঘটনায় তিনি বরিশাল কোতোয়ালী মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অন্যদিকে, অভিযুক্ত বিপ্লব হোসেন তার বিরুদ্ধে আনা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, ফিরোজ তাকে জিম্মি করে টাকা আদায়ের চেষ্টা করছেন।
এই ঘটনাটি আমাদের সমাজের গভীরে লুকিয়ে থাকা এক চরম নৈতিক অবক্ষয়কে সামনে এনেছে। লিঙ্গান্তরের মতো সংবেদনশীল বিষয়কে পুঁজি করে আর্থিক ও মানসিক প্রতারণা কেবল আইনি অপরাধ নয়, বরং এটি একটি বড় ধরনের মানবিক বিপর্যয়।
রাজশাহীর এই ঘটনাটি এখন কেবল একটি স্থানীয় বিবাদ নয়, বরং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। ফিরোজ কি তার হারানো অর্থ ও মর্যাদা ফিরে পাবেন? না কি প্রতারণার এই অন্ধকারে হারিয়ে যাবে আরও একটি জীবন?
আপনার চারপাশের এমন আরও বিশ্লেষণধর্মী খবরের জন্য চোখ রাখুন মনোলোক-এ।