
মনোলোক : যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে আটক এক বন্দির স্ত্রী ও সন্তান মৃত্যুর ঘটনায় প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়েছে, এমন খবর গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত হলেও তা সম্পূর্ণ অসত্য ও বিভ্রান্তিকর বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন, যশোর।
জেলা প্রশাসনের মিডিয়া সেলের পক্ষ থেকে দেওয়া এক লিখিত ঘোষণায় বলা হয়েছে, এ ঘটনায় জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, যশোর কিংবা যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার কর্তৃপক্ষের কাছে প্যারোলে মুক্তির কোনো আবেদনই করা হয়নি।
ঘোষণায় জানানো হয়, গত ১৫ জানুয়ারি ২০২৫ তারিখে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে আটক বন্দি জুয়েল হাসান সাদ্দামের স্ত্রী ও সন্তান মৃত্যুবরণ করেন। তবে সময় স্বল্পতার কারণে পারিবারিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্যারোলে মুক্তির আবেদন না করে জেল গেটে মরদেহ দেখানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
জেলা প্রশাসন স্পষ্টভাবে জানায়, বন্দির পরিবার জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বরাবর কিংবা কারা কর্তৃপক্ষের কাছে মৌখিক বা লিখিতভাবে কোনো আবেদন করেনি। ফলে প্যারোলে মুক্তির প্রশ্নই ওঠে না।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো তথ্য ভুয়া
ঘোষণায় আরও উল্লেখ করা হয়, ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বন্দির স্ত্রীর নামে লেখা চিঠি ও কারাগারে বন্দি অবস্থার ছবি প্রচার করা হচ্ছে, যা যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়। এসব তথ্য উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ছড়ানো হয়েছে বলে মনে করছে প্রশাসন।
এছাড়া প্যারোলে মুক্তির আবেদন করা হলেও তা নাকচ করা হয়েছে, এমন দাবিও ভিত্তিহীন ও মিথ্যা বলে জানানো হয়।
মানবিক বিবেচনায় যা করা হয়েছে
জেলা প্রশাসনের ব্যাখ্যায় বলা হয়, পরিবারের মৌখিক অনুরোধের প্রেক্ষিতে মানবিক দিক বিবেচনায় কারা কর্তৃপক্ষ উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে বন্দিকে মরদেহ দেখানোর ব্যবস্থা গ্রহণ করে।
বিষয়টি সর্বসাধারণের অবগতির জন্য জানানো হয়েছে এবং একই সঙ্গে সত্য যাচাই করে দায়িত্বশীল সংবাদ প্রকাশের জন্য গণমাধ্যমের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।
ঘোষণায় স্বাক্ষর করেন
অমি কুমার দাস
সহকারী কমিশনার
মিডিয়া সেল
জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, যশোর
Leave a Reply