
মনোলোক : জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে নির্বাচনী জনসভায় প্রশাসন ও আগ্রাসী ক্ষমতার ব্যবহারের বিরুদ্ধে ঝড়ো মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, “যদি প্রশাসন জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়, ভোট চোরদের হাতে দেশ তুলে দেয় এবং ক্ষমতার অপব্যবহার চালিয়ে যায়, তাহলে **ফের ৫ আগস্টের মতো গণআন্দোলনকে কেউ ঠেকাতে পারবে না।”
জনসভায় তিনি সরাসরি প্রশাসন, বিশেষত উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তা ও সচিবদের উদ্দেশ্যে বলেন, “দেশ যদি ভোটারদের নয়, ভোট চোরদের হাতে দিয়ে দেওয়া হয়, একদিন তারা আপনাদেরই -দিকে গুলি চালাতে বলবে।” তিনি প্রশাসনিক বিদ্রোহ, নিয়ন্ত্রণহীন ক্ষমতার পুনরাবৃত্তি এবং ভোট প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতার অভাবকে দেশের বৃহত্তর সংকটের সংকেত হিসেবে উপস্থাপন করেন।
নির্বাচনী ইস্যুকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে রাজনৈতিক উত্তেজনা তীব্র অবস্থায় রয়েছে। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে বিরোধ এবং ছাত্র-জনতার বিক্ষোভের পর ক্ষমতাসীন ধারা বদলে গেছে; অনেক বিশ্লেষক এই ঘটনাকে রাজনৈতিক সংস্কারের রূপান্তর বলে দেখছেন।
হাসনাত আব্দুল্লাহ এনসিপির অবস্থান স্পষ্ট করে বলেছেন, পুরানো রাজনৈতিক নিয়ম ও ব্যবস্থা আর গ্রহণযোগ্য নয়। তাঁর বক্তব্য—“অস্ত্রোপচারের মতো নির্বাচন হওয়া চলবে না; প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনকে নিরপেক্ষ থাকতে হবে, নইলে জনগণের আস্থা ভাঙবে।” এর আগে তিনি বলেছিলেন, প্রশাসন নিরপেক্ষ না হলে জনগণ আবারও রাস্তায় নেমে নির্বাচনী সংস্কার ও গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা করবে।
তিনি মিডিয়ার ভূমিকা নিয়েও তীব্র সমালোচনা করেন, দাবি করে যে কিছু গণমাধ্যম একপক্ষীয় রাজনৈতিক এজেন্ডা চালাচ্ছে এবং বিরোধী পক্ষকে মার্জিতভাবে তুলে ধরছে না। গণমাধ্যম নিরপেক্ষ না হলে জনগণ “লাল কার্ড” দেখাবে বলেও মন্তব্য করেন।
৫ আগস্ট শুধু একটি তারিখ নয়, তা এখন বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠানগত সংস্কারের দাবি হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এই দিনে ২০২৪ সালের গণআন্দোলন ও রাজনীতির টানাপোড়েন রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনালগ্ন হিসেবে বিবেচিত—যেখানে মহাসড়ক থেকে শুরু করে সাংবিধানিক সংস্কার দাবি পর্যন্ত আলোচনায় এসেছে।
এনসিপি নেতার এই বক্তব্য এসেছে ১১ দলীয় জোটের সমর্থনে আয়োজিত জনসভায়, যেখানে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা জামায়াতে ইসলামীর নেতারা এবং অন্যান্য যৌথ কর্ণধার উপস্থিত ছিলেন। হাসনাত বলেন, “এবারের ভোট শুধু ক্ষমতায় আবদ্ধ নয়, বরং দেশের রাজনৈতিক নিয়মই বদলাতে হবে।”
Leave a Reply