
মনোলোক : কিশোরগঞ্জ অভিমুখী এগারোসিন্দুর গোধূলি ট্রেনে যাত্রাকালে ভৈরব রেলওয়ে স্টেশনে তরুণ আবু সুফিয়ানকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। এই মর্মান্তিক ঘটনায় গোটা এলাকায় নেমে আসে শোক ও আতঙ্কের ছায়া। দীর্ঘদিনের তদন্ত ও অভিযানের পর অবশেষে রেলওয়ে পুলিশের তৎপরতায় হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত ৬ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সঙ্গে উদ্ধার করা হয়েছে হত্যায় ব্যবহৃত চাকু ও নিহতের লুণ্ঠিত মোবাইল ফোন।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, যাত্রাপথে পূর্বপরিকল্পিতভাবে দুর্বৃত্তচক্র ট্রেনের ভেতর আবু সুফিয়ানের ওপর হামলা চালায়। ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করে তাকে গুরুতর আহত করা হয়। পরে স্টেশন এলাকায় তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে পালিয়ে যায় হামলাকারীরা। দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে সাধারণ যাত্রী ও এলাকাবাসী। নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে থাকে রেলপথে চলাচলকারী যাত্রীদের মধ্যে। ঘটনার পরপরই রেলওয়ে পুলিশ বিশেষ তদন্ত দল গঠন করে। বিভিন্ন স্থানের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ, প্রযুক্তিগত নজরদারি এবং গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।
রেলওয়ে পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। উদ্ধার হওয়া চাকু ও মোবাইল ফোন ঘটনাটির সাথে সরাসরি সংশ্লিষ্ট প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং বাকি জড়িতদের শনাক্তে অভিযান অব্যাহত থাকবে।
এদিকে আবু সুফিয়ানের পরিবার এখনো শোকের গভীর অন্ধকারে ডুবে আছে। পরিবারের সদস্যরা দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। তাদের ভাষায়, “আমাদের সন্তান আর ফিরে আসবে না, কিন্তু এই হত্যার বিচার যেন হয়—এটাই আমাদের শেষ দাবি।”
সচেতন মহল মনে করছেন, রেলপথে যাত্রী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আরও কঠোর নজরদারি, আধুনিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং নিয়মিত টহল জোরদার করা জরুরি। এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার এবং অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত হলেই কেবল জনগণের আস্থা ফিরবে।
Leave a Reply