
মনোলোক : পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় গত নভেম্বর ২০২৫ থেকে ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত টানা প্রায় চার মাস বৃষ্টিপাত না হওয়ায় মুগডাল চাষে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। দীর্ঘস্থায়ী খরার প্রভাবে ফসলি জমিতে চরম পানির সংকট দেখা দিয়েছে। জমি ফেটে চৌচির হয়ে গেছে, মাটিতে নেই প্রয়োজনীয় আর্দ্রতা। ফলে চলতি মৌসুমে মুগডালের চারা স্বাভাবিকভাবে গজাতে পারেনি বলে জানিয়েছেন কৃষকরা।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ জমিই শুকনো ও শক্ত হয়ে রয়েছে। বীজ বপনের সময় থেকেই জমিতে পর্যাপ্ত রস না থাকায় অনেক জায়গায় চারা দুর্বল অবস্থায় রয়েছে। কোথাও কোথাও বীজ অঙ্কুরিতই হয়নি। এতে সম্ভাব্য ফলন বিপর্যয়ের শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, এলাকার খাল-বিল ও জলাশয়গুলো প্রায় পানিশূন্য হয়ে পড়েছে। নাব্যতা হারানো খালগুলোতে পানি জমে না, ফলে সেচের সুযোগও সীমিত। সরকারি উদ্যোগে কার্যকর সেচ ব্যবস্থার অভাব রয়েছে বলেও দাবি তাদের। কৃষকদের ভাষ্য, আমরা খাদ্য উৎপাদন করি, কিন্তু সংকটের সময় আমাদের পাশে দাঁড়ানোর মতো কার্যকর ব্যবস্থা নেই। কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে—এ কথা বলা হলেও বাস্তবে আমরা অবহেলিত।
বড়বাইশদিয়া ইউনিয়নের কৃষক মো. শাহিন হাওলাদার ও মো. জিসান মাহমুদ বলেন, একদিকে টানা খরা, অন্যদিকে খালগুলোর নাব্যতা নেই। আগে এসব খালে সারা বছর পানি থাকত। এখন খাল শুকিয়ে যাওয়ায় সেচ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। জরুরি ভিত্তিতে খাল পুনঃখনন না করলে আগামী দিনে কৃষি আরও বড় হুমকিতে পড়বে। গত বছরের তুলনায় এ বছর শুধু পানির অভাবেই মুগডালের ফলন কম হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
কৃষকদের মতে, সেচের জন্য স্বল্পসুদে পাম্প সরবরাহ, খাল পুনঃখনন এবং বিকল্প পানি সংরক্ষণ প্রকল্প গ্রহণ এখন সময়ের দাবি। অন্যথায় শুধু মুগডাল নয়, অন্যান্য রবি ফসলও ক্ষতির মুখে পড়বে।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান বলেন, এ বছর রাঙ্গাবালী উপজেলায় প্রায় ১৫ হাজার হেক্টর জমিতে মুগডাল বপন করা হয়েছে। তবে চলতি মৌসুমে বৃষ্টিপাত না হওয়ায় ফলন কম হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি জানান, সেচ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে ক্ষতি অনেকাংশে পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব। বর্ষা মৌসুমের শেষ দিকে খালে অস্থায়ী বাঁধ দিয়ে মিষ্টি পানি সংরক্ষণ করা গেলে তা পরবর্তী মৌসুমে সেচ কাজে ব্যবহার করে ফলন বৃদ্ধি করা যেতে পারে।
কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে উপকূলীয় অঞ্চলে অনিয়মিত বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে টেকসই সেচ ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং খাল পুনঃখনন প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন না হলে ভবিষ্যতে খাদ্য উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
স্থানীয় কৃষকরা দ্রুত খাল খনন, নাব্যতা পুনরুদ্ধার এবং সেচ সুবিধা নিশ্চিত করতে সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের আশঙ্কা, সময়মতো কার্যকর উদ্যোগ না নিলে চলতি মৌসুমে ব্যাপক লোকসানের পাশাপাশি আগামী মৌসুমেও কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে।
Leave a Reply