
মনোলোক : জামালপুর শহরের পুরাতন ফেরিঘাট এলাকায় বৃহস্পতিবার দুপুরে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল আরোহী বাবা ও ছেলে নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছে পরিবারের আরেক সদস্য। দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের বিক্ষোভ, মহাসড়ক অবরোধ ও ভাঙচুরের ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
নিহতরা হলেন মোহাম্মদ দেলোয়ার মাহমুদ (৫০) ও তাঁর ছেলে ইসতিয়াক আহম্মেদ (২০)। আহত ছোট ছেলে মোহাম্মদ আবরার (৫) বর্তমানে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
যেভাবে ঘটল দুর্ঘটনা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকাল থেকে জামালপুর-শেরপুর মহাসড়কের ফেরিঘাট এলাকায় পুলিশ চেকপোস্ট বসিয়ে যানবাহন তল্লাশি চালাচ্ছিল। দুপুরের দিকে দেলোয়ার মাহমুদ তাঁর দুই ছেলেকে নিয়ে মোটরসাইকেলযোগে গ্রামের বাড়ি ফিরছিলেন। পুলিশ থামার সংকেত দিলে তারা চেকপোস্টে মোটরসাইকেল থামান। ঠিক সেই সময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি দ্রুতগতির ট্রাক মোটরসাইকেলটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়।
প্রচণ্ড ধাক্কায় দেলোয়ার ও তাঁর বড় ছেলে ট্রাকের সামনে ছিটকে পড়ে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। ছোট ছেলে আবরার গুরুতর আহত অবস্থায় পড়ে থাকলে স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান।
বিক্ষোভ, অবরোধ ও ভাঙচুর
দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই নিহতদের স্বজন ও স্থানীয়রা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। তারা মহাসড়ক অবরোধ করেন এবং পুলিশের একটি পিকআপে ভাঙচুর চালান। অভিযোগ রয়েছে, কিছু বিক্ষুব্ধ ব্যক্তি পুলিশের ওপরও হামলা চালান।
দুপুর দুইটা থেকে বিকাল সাড়ে চারটা পর্যন্ত অবরোধ চলায় মহাসড়কের দুই পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
অব্যবস্থাপনার অভিযোগ
স্থানীয়দের অভিযোগ, দুর্ঘটনার পর ফায়ার সার্ভিস সময়মতো পৌঁছায়নি এবং পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর ব্যবস্থা না নিয়ে ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়ে ভিডিও ধারণে ব্যস্ত ছিল। প্রত্যক্ষদর্শী হৃদয় আহমেদ বলেন,
“ঘাতক ট্রাকটি আটক করা হয়নি, যা এই ঘটনায় আরও অব্যবস্থাপনার প্রমাণ।”
তবে জামালপুর ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন ম্যানেজার রবিউল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রম সম্পন্ন করেছেন।
এ বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাড়ি শেরপুরে, এলাকায় শোকের ছায়া
নিহত দেলোয়ার মাহমুদের বাড়ি শেরপুর জেলার চরমোচারিয়া ইউনিয়নের কেন্দুয়ারচর এলাকায়। খবর পেয়ে সেখানে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
স্থানীয়দের দাবি, ফেরিঘাট ব্রিজ ও চেকপোস্ট এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে যানজট ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি রয়েছে। দ্রুতগতির যানবাহন নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপদ চেকপোস্ট ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত না করলে ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
Leave a Reply