
নিজস্ব প্রতিবেদক, মনোলোক |
ভৈরব মহানগরীর রানী বাজার এলাকার একটি দোকানের ভাড়াকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা কাটতে শুরু করেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রভাবে শাহ আলম নামের এক ব্যক্তির কাছ থেকে বকেয়া ভাড়ার ২৪,৫৬০ টাকা আদায় করা সম্ভব হয়েছে। তবে টাকা আদায় হলেও খরচের স্বচ্ছতা এবং মালিকানা নিয়ে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
ভাড়া আদায় ও বিলম্বের কারণ
ভাড়া উত্তোলনের বিষয়টি স্বীকার করে শাহ আলম জানিয়েছেন, কাগজপত্র অনুযায়ী যারা মালিক, তাদের নির্দেশেই তিনি ভাড়া উত্তোলন করেছেন। স্ত্রী ঢাকা হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে ভর্তি থাকায় টাকা পরিশোধে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। একই সঙ্গে তিনি জানান, ভাড়াটিয়া নিজ দায়িত্বে দোকান মেরামত করেছেন এবং এর সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
উত্থাপিত প্রশ্ন ও স্বচ্ছতার দাবি
শাহ আলমের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে পাল্টা প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্ট অংশীদাররা। তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে:
বিগত বছরের হিসাব পরিষ্কার না করে কেন এই বছরের টাকা উত্তোলন করা হলো?
টাকা উত্তোলন শাহ আলম নিজে করলেও কেন খরচের হিসাব অন্যজনের কাছ থেকে নিতে বলা হচ্ছে?
’কাগজপত্র অনুযায়ী মালিক’ বলতে তিনি কাদের বোঝাচ্ছেন, তাদের পরিচয় প্রকাশ করা প্রয়োজন। এটি পৈত্রিক সম্পত্তি হওয়া সত্ত্বেও কেন নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তির মর্জির ওপর নির্ভর করতে হবে, তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে।
পারিবারিক ও সামাজিক দায়বদ্ধতা
অভিযোগ উঠেছে যে, ভাড়ার টাকা শাহ আলমের কাছে আছে—এই তথ্যটি জানতে দীর্ঘ ছয় মাস সময় লেগেছে। আত্মীয়-স্বজন ও অংশীদারদের ফোন এড়িয়ে যাওয়া এবং সঠিক সময়ে পাওনা বুঝিয়ে না দেওয়ার কারণে পারিবারিক জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, “বুঝলে বুঝ পাতা, নতুবা তেজ পাতা।” শাহ আলমকে একজন বিচক্ষণ ব্যক্তি ও সামাজিক সংগঠনের সাথে জড়িত হিসেবে উল্লেখ করে তার কাছে পূর্ণ স্বচ্ছতা ও সততা আশা করছেন তারা।
সমাধানের আহ্বান
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সকল ওয়ারিশগণকে তাদের দায়িত্ব পালনের অনুরোধ জানানো হয়েছে। সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘদিনের এই জটিলতা নিরসনে এবং বোনদের পাওনা বুঝিয়ে দিয়ে হিসাবটি চূড়ান্তভাবে শেষ করতে সংশ্লিষ্ট সকলের শুভবুদ্ধির উদয় হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
Leave a Reply