
মনোলোক : কুয়েতের এক কিশোর তার মায়ের ক্রেডিট কার্ড চুরিকরে টাকা তুলে বিদেশী শ্রমিকদের জন্য ইফতার আয়োজন করে বিলি করার মুহুর্তে তার বড় ভাইয়েরা তাকে ধরে ফেলে। তখন তাকে জিজ্ঞাস করে তুমি মায়ের কার্ড কেন নিয়েছো? উত্তরে সে দেখায় একটি পিকাপে ভরে শ্রমিকদের জন্য ইফতার নিয়ে এসেছে। তখন তাকে ইফতার বিতরণের অনুমতি দেয়। পরে তাকে প্রশ্ন করা হয়, তোমাকে কে বলেছে এভাবে ইফতার বিলিকরতে? তার সোজা উত্তর, হাদিস! তার ভাইদের প্রশ্ন, তাই বলে কার্ড চুরি করে? কিশোর এই নিয়ে প্রায় বিতর্কে জড়িয়ে ভাইদের বুঝায় সাওয়াবে পাপ নাই!
কিশোরের নাম আহমেদ আলসাহলি।
হঠাৎ করে মায়ের মোবাইলে মেসেজ আসে— তার অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা কেটে নেওয়া হয়েছে। অথচ তিনি তো কোনো টাকা তোলেননি! দ্রুত মানিব্যাগ খুঁজে দেখেন, এটিএম কার্ড নেই। ঘরে ছোট ছেলেকেও পাওয়া যাচ্ছে না। উদ্বিগ্ন কণ্ঠে তিনি তার বড় ছেলেকে বললেন— “আমার কার্ড থেকে টাকা কেটে গেছে, কার্ডও পাচ্ছি না, তোর ছোট ভাইকেও খুঁজে পাচ্ছি না… তুই একটু রাস্তায় গিয়ে দেখ।”
বড় ছেলে দৌড়ে বাইরে গিয়ে যা দেখল, তা দেখে সে অবাক। তাদের ছোট ভাই সেই এটিএম কার্ডের টাকা দিয়ে রাস্তায় দাঁড়িয়ে বাংলাদেশি, পাকিস্তানি, ভারতীয় ভাইদের হাতে ইফতার বিতরণ করছে। তার চোখে কোনো ভয় নেই, আছে তৃপ্তির হাসি।
হ্যাঁ, মায়ের অনুমতি ছাড়া কার্ড নেওয়া অবশ্যই ভুল। কিন্তু ছোট্ট হৃদয়ের ভেতরে যে মানবতা আর সহমর্মিতা ছিল, সেটাও অস্বীকার করার নয়। সে চুরি করতে শেখেনি, সে শিখেছে রোজাদারের মুখে হাসি ফোটাতে।
মায়ের ATM কার্ড চু*রি করে পুরো আরব বিশ্বকে স্তব্ধ করে দিয়েছে! 🇰🇼

মায়ের ATM কার্ড চু*রি করে পুরো আরব বিশ্বকে স্তব্ধ করে দিয়েছে 🇰🇼 কুয়েতের এক কিশোর
মা যখন ঘরে হন্যে হয়ে নিজের ক্রেডিট কার্ড খুঁজছিলেন, তখন তার এই ছোট্ট ছেলে রাস্তার মোড়ে দাঁড়িয়ে এক অবিশ্বাস্য কাজ করছিল।
বড় ভাই যখন তাকে ধরতে গেল, তখন ছোট ভাইয়ের মুখে শোনা গেল এমন এক কথা যা শুনে কোটি মানুষের চোখে জল চলে এসেছে।
এই বাচ্চাটি তার মায়ের কার্ড দিয়ে খাবার কিনে কুয়েতের রাস্তায় অসহায় ইন্ডিয়ান, পাকিস্তানি ও বাংলাদেশি শ্রমিকদের মাঝে খাবার বিলিয়ে দিচ্ছিল।
“আমি তো শুধু ক্ষুধার্তদের খাওয়াচ্ছিলাম ভাইয়া!!” এই এক লাইনেই বদলে গেল পুরো পরিবারের ভাগ্য। আজ কুয়েতের রাজপরিবার থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ, সবাই এই শিশুর সাহসিকতা আর দয়া দেখে তাকে স্যালুট জানাচ্ছে।
এই ঘটনা আমাদের শেখায়— সন্তানদের শুধু শাসন করলেই হবে না, দান করার আগে দায়িত্ববোধ ও অনুমতির গুরুত্বও শেখাতে হবে। ভালো নিয়ত থাকলেই যথেষ্ট নয়, সঠিক পথ জানা জরুরি।
ছোট্ট একটি ভুলের মাঝেও লুকিয়ে ছিল বড় এক মানবতার শিক্ষা। রমজান আমাদের সবাইকে দয়া, সহমর্মিতা আর দায়িত্বশীলতার সঠিক পথ দেখাক।
Leave a Reply