
মো:জুয়েল রানা ডিমলা (নীলফামারী) ; মনোলোক : নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় তিস্তা নদীর জীববৈচিত্র্য, পরিবেশ ও নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ রক্ষায় অবৈধ পাথর উত্তোলনের বিরুদ্ধে বৃহৎ পরিসরে টাস্কফোর্স অভিযান পরিচালিত হয়েছে। আজ ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ (বুধবার) সকাল ১১টা ১৫ মিনিট থেকে উপজেলার টেপাখড়িবাড়ি ও খালিশাচাপানি ইউনিয়নের বিভিন্ন স্পটে একযোগে এ অভিযান শুরু হয় এবং দীর্ঘ সময়ব্যাপী চলে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র তিস্তা নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন করে আসছিল, যা নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ, তীরবর্তী এলাকার পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করছিল। এর প্রেক্ষিতে ডিমলা উপজেলা প্রশাসন ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির অংশ হিসেবে কঠোর এই অভিযান পরিচালনার উদ্যোগ গ্রহণ করে।
অভিযানের প্রথম ধাপে টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে অবৈধ পাথর উত্তোলনে ব্যবহৃত ১১টি ইঞ্জিনচালিত নৌকা জব্দ ও ধ্বংস করা হয়। পাশাপাশি পাথর উত্তোলনের কাজে ব্যবহৃত ৬টি শ্যালো মেশিন ঘটনাস্থলেই বিনষ্ট করা হয়। পরে খালিশাচাপানি ইউনিয়নে অভিযান পরিচালনা করে আরও ৫টি শক্তিশালী সিক্স-সিলিন্ডার মেশিন ধ্বংস করা হয়, যা দিয়ে নদীর তলদেশ থেকে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন করা হচ্ছিল।
অভিযানটি সরাসরি তদারকি ও সফলভাবে পরিচালনা করেন ডিমলা উপজেলার উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) জনাব মো: ইমরানুজ্জামান এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট জনাব রওশন কবির। তাদের নেতৃত্বে গঠিত টাস্কফোর্স অত্যন্ত সুসংগঠিতভাবে অভিযান পরিচালনা করে এবং অবৈধ কার্যক্রমে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেয়।
অভিযান চলাকালে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে Border Guard Bangladesh (বিজিবি)-এর ৬২ জন সদস্য এবং বাংলাদেশ পুলিশ-এর একটি চৌকস দল সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। তাদের উপস্থিতিতে পুরো অভিযান নির্বিঘ্নভাবে সম্পন্ন হয় এবং কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তিস্তা নদী থেকে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনের ফলে নদীর গভীরতা, প্রবাহ ও তীরবর্তী এলাকার কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশগত ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। এছাড়া নদীর প্রাকৃতিক জীববৈচিত্র্যও হুমকির মুখে পড়ছে। তাই পরিবেশ রক্ষা ও নদীভাঙন প্রতিরোধে এ ধরনের অবৈধ কার্যক্রম বন্ধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।
প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আরও জানান, ভবিষ্যতে কেউ অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা, জব্দ, জরিমানা এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ডিমলা উপজেলা প্রশাসন স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, তিস্তা নদী রক্ষায় কোনো ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড সহ্য করা হবে না এবং পরিবেশ ও জনস্বার্থে এই কঠোর অভিযান ধারাবাহিকভাবে পরিচালিত হবে।
Leave a Reply