
মনোলোক : ইজরায়েল ছাড়তে চাইলে আজই ছাড়ুন! দূতাবাসকর্মীদের বললেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত, ইরানের সঙ্গে ফের যুদ্ধের আশঙ্কাতেই কি বার্তা!
ইজ়রায়েল ছাড়তে চাইলে আজই ছাড়ুন! দূতাবাসকর্মীদের বললেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত,
ইরান আগেই জানিয়েছে, আমেরিকা যদি হামলা চালায়, তা হলে পশ্চিম এশিয়ায় তাদের যত সেনাঘাঁটি রয়েছে, সেখানে পাল্টা হামলা চালাবে তারা। ছেড়ে কথা বলবে না। সে কারণেই কি সতর্ক হচ্ছে আমেরিকা!
ইজ়রায়েল ছাড়তে চাইলে শুক্রবারই তা করতে হবে। সে দেশে আমেরিকার দূতাবাসকর্মীদের জানালেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি শুক্রবার সকাল ১০টা ২৪ মিনিটে (ইজ়রায়েলের সময়) মার্কিন দূতাবাসকর্মীদের ইমেল করে সেই কথা জানিয়েছেন মাইক। সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইম্সে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুসারে, ইজ়রায়েল থেকে যে কোনও বিমান ধরে মার্কিন দূতাবাসকর্মীদের ওয়াশিংটনে চলে যাওয়ার কথা বলেছেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত। যেনতেন প্রকারে ইজ়রায়েল ছাড়ার বিষয়টিকে ‘অগ্রাধিকার’ দিতে বলেছেন তিনি। চলতি সপ্তাহে পরমাণু চুক্তি নিয়ে ইরানের সঙ্গে আমেরিকার আলোচনায় বসার কথা। তার আগে সংঘাত চরমে উঠেছে। সেই আবহে ইজ়রায়েলের মার্কিন দূতাবাসের এই ইমেল তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। প্রশ্ন উঠছে, শীঘ্রই কি ইরানে হামলা চালাবে আমেরিকা? না কি আলোচনার জন্য অপেক্ষা করবে!
তবে একই সঙ্গে মাইক দূতাবাসকর্মীদের ‘আতঙ্কিত’ হতে বারণ করেছেন। তিনি ইমেলে লেখেন, ‘আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। কিন্তু যাঁরা ইজ়রায়েল ছাড়তে চান, তাঁদের শীঘ্রই ওই দেশ ছাড়ার পরিকল্পনা করা জরুরি।’ অন্য দিকে, সরকারি কর্মীদের ইরান ছাড়তে বলেছে ব্রিটেনও। জানিয়েছে, নিরাপত্তার কথা ভেবেই আপাতত এই সিদ্ধান্ত।
ইরানের সঙ্গে সংঘাতের মাঝে কেন ‘বন্ধুদেশ’ ইজ়রায়েল থেকে দূতাবাসের কর্মীদের চলে যেতে বলছে আমেরিকা? ইরান আগেই জানিয়েছে, আমেরিকা যদি তাদের উপর হামলা চালায়, তা হলে পশ্চিম এশিয়ায় যত সেনাঘাঁটি রয়েছে, সেখানে পাল্টা হামলা চালাবে তারা। ছেড়ে কথা বলবে না। শুধু তা-ই নয়, ইরান সরাসরি ইজ়রায়েলে হামলা চালাবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছে। তা যদি করে, সে ক্ষেত্রে পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত চরমে উঠতে পারে। মনে করা হচ্ছে, সে কারণে আগেভাগে সতর্ক হচ্ছে আমেরিকা।
ইরানের সঙ্গে আমেরিকার সংঘাত নতুন নয়। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর থেকে সেই সংঘাত বেড়েছে কয়েক গুণ। প্রায়ই দু’পক্ষ নরমে-গরমে একে অপরের বিরুদ্ধে সুর চড়াচ্ছে। সেই সঙ্গে চলছে পরমাণু চুক্তি নিয়েও আলোচনা। তবে প্রথম দু’দফার বৈঠকে কোনও রফাসূত্র বার হয়নি। ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, ইউরেনিয়াম সঞ্চয় বন্ধ করতে হবে ইরানকে। বন্ধ করতে হবে পরমাণু প্রকল্প। ট্রাম্পের আরও দাবি, স্থানীয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলিকেও মদত দেয় ইরান। সেই মদতও বন্ধ করতে হবে। ইরান বার বার দাবি করেছে, শান্তিপূর্ণ ভাবে মানুষের কল্যাণেই পরমাণু প্রকল্প চালাচ্ছে তারা।
গত ১৯ ফেব্রুয়ারি চুক্তি করার জন্য ইরানকে ১৫ দিন সময় বেঁধে দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। কট্টরপন্থী গোষ্ঠীগুলিকে মদত বন্ধ করার ডাকও দেন ট্রাম্প। যদিও ইরানের দাবি, তারা শুধুই পরমাণু প্রকল্প নিয়ে আলোচনা করবে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন বলছে, ট্রাম্পের প্রতিনিধিদল ইরানের সামনে দাবি রাখবে, তাদের তিনটি পরমাণু প্রকল্প বন্ধ করে দিতে হবে। সঞ্চিত ইউরেনিয়াম আমেরিকার হাতে তুলে দিতে হবে। ইরান শুক্রবার জানিয়েছে, চুক্তি করতে হলে আমেরিকা ‘অতিরিক্ত দাবিদাওয়া’ করতে পারবে না। চলতি সপ্তাহেই পরমাণু চুক্তি নিয়ে ইরানের সঙ্গে ফের এক দফা বৈঠকে বসার কথা রয়েছে আমেরিকার।
এই আবহে পশ্চিম এশিয়ায় সামরিক শক্তি আরও বৃদ্ধি করেছে আমেরিকা। প্রায় ১২টি যুদ্ধবিমান পাঠায় ‘বন্ধুরাষ্ট্র’ ইজ়রায়েলে। ‘নিউ ইয়র্ক টাইম্স’ জানাচ্ছে, তার মধ্যে কিছু যুদ্ধবিমান ইতিমধ্যে অবতরণও করে গিয়েছে ইজ়রায়েলে।
গত বছরও পরমাণু প্রকল্প নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা ভেস্তে যায়। গত জুন মাসে ইরানে হামলা করে বসে ইজ়রায়েল। ১২ দিন ধরে চলে সংঘাত। ইরানের পরমাণু কেন্দ্র লক্ষ্য করে বোমা ছোড়ে আমেরিকাও।
Leave a Reply