
মনোলোক : আশুলিয়া, সাভারঃ সাভারের আশুলিয়া থানাধীন পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় আবাসিক হোটেলের আড়ালে চলছে রমরমা দেহ ব্যবসা ও মাদকের কেনাবেচা।
বিশেষ করে পবিত্র রমজান মাসেও ‘মুন গেস্ট হাউস’ নামক একটি প্রতিষ্ঠানে দিনে-দুপুরে চলছে এসব অসামাজিক কার্যকলাপ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এই অপকর্মের নেপথ্যে থাকা মূলহোতা নূর ইসলাম প্রশাসনের ধরা ছোঁয়ার বাইরে থেকে সিন্ডিকেটটি নিয়ন্ত্রণ করছেন।
বৃহস্পতিবার(২৬ ফেব্রুয়ারি) বিকালে সরেজমিনে অনুসন্ধানে জানা যায়,পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় অবস্থিত ‘আন্-নূর চক্ষু হাসপাতাল এন্ড ফ্যাকো সেন্টার’-এর ঠিক পেছনের ভবনের দ্বিতীয় তলায় এই গেস্ট হাউসটির অবস্থান। বাইরে থেকে গেটে সবসময় তালাবদ্ধ রাখা হয় যাতে সাধারণ মানুষের মনে হয় প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ। কিন্তু ভেতরে চলে ভিন্ন চিত্র। নির্দিষ্ট একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে খদ্দের সংগ্রহ করে ভেতরে দেহ ব্যবসা পরিচালনা করা হয়। শুধু তাই নয় এই আস্তানাকে কেন্দ্র করে এলাকায় মাদকের বিস্তার আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
সম্প্রতি কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মী এ অনৈতিক কর্মকাণ্ডের তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে তাদের ভেতরে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়। অভিযোগ উঠেছে, নূর ইসলামের ভাড়াটে লোকবল দ্বারা সাংবাদিকদের লাঞ্ছিত করা হয়েছে এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে। ইতিপূর্বে একাধিক সংবাদ মাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে খবর প্রকাশিত হলেও কোন এক অদৃশ্য শক্তির কারণে এ পাপের আস্তানা বন্ধ হচ্ছে না।
আবাসিক এলাকার ভেতরে এমন কর্মকাণ্ড চলায় স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।
স্থানীয়দের দাবি, পবিত্র রমজান মাসের পবিত্রতা নষ্ট হচ্ছে এবং সামাজিক পরিবেশ কলুষিত হচ্ছে। স্কুল-কলেজ পড়ুয়া কিশোর ও তরুণরা এ অনৈতিক কাজে আকৃষ্ট হয়ে বিপথে যাচ্ছে। হোটেলের আড়ালে বিভিন্ন নেশাজাতীয় দ্রব্যের কেনাবেচা এখন ওপেন সিক্রেট।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রশাসনের নাকের ডগায় দীর্ঘদিন ধরে এই কর্মকাণ্ড চললেও স্থায়ী কোনো সমাধান আসছে না। মাঝেমধ্যে লোক দেখানো অভিযান হলেও কয়েকদিন পরেই আবারও নূর ইসলামের নেতৃত্বে একই চিত্র শুরু হয়। রহস্যজনক কারণে এই মূলহোতা সবসময় ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছেন।
অবিলম্বে ‘মুন গেস্ট হাউস’ সিলগালা করা এবং মূলহোতা নূর ইসলামসহ এই চক্রের সকল সদস্যকে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক।
জনস্বার্থে এই এলাকাকে অপরাধমুক্ত করতে আইজিপি সহ উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।
Leave a Reply