
মাইনুল ইসলাম মিসির : আজ যুদ্ধের ২১তম দিন। ২১ দিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ বারুদের গন্ধে ভারী হয়ে আছে। কিন্তু আজ ওয়াশিংটন থেকে এমন কিছু বার্তা আসছে যা একই সাথে বিভ্রান্তিকর এবং বিস্ফোরক।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন, তিনি এই যুদ্ধ “গুটিয়ে আনতে” চান। অথচ এই ঘোষণার ঠিক এক ঘণ্টা আগেও তিনি হুঙ্কার দিয়েছিলেন—”আমি কোনো যুদ্ধবিরতি চাই না।” এই যে ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে যাওয়া, এটা কি রণকৌশল, নাকি মিত্রদের ওপর চাপ তৈরির নতুন কোনো ফাঁদ?
প্রেসিডেন্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তার দায়িত্ব এবার “অন্যান্য দেশগুলোকে” নিতে হবে। তিনি ন্যাটো মিত্রদের রীতিমতো ‘কাপুরুষ’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। কেন? কারণ তার মতে, প্রণালীটি সচল করতে তারা যথেষ্ট সক্রিয় নয়। মজার ব্যাপার হলো, একদিকে তিনি বলছেন আমেরিকার কারো সাহায্যের প্রয়োজন নেই, আবার পরক্ষণেই বলছেন সাহায্য চাইলে আমেরিকা ভেবে দেখতে পারে।
এদিকে যুদ্ধের ময়দানের খবরাখবর একটু দেখে নেওয়া যাক:
যুক্তরাজ্যের অবস্থান: ব্রিটেন এখন “সম্মিলিত আত্মরক্ষার” দোহাই দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনীকে তাদের ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে। অর্থাৎ, যুদ্ধের পরিধি কমার বদলে কৌশলগতভাবে আরও বিস্তৃত হচ্ছে।
জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা: তেলের বাজার এখন আগ্নেয়গিরির মতো। গতকাল ব্রেন্ট ক্রুড অয়েল ব্যারেল প্রতি ১১৯ ডলারে উঠেছিল, আজ তা কিছুটা কমে ১০৭ ডলারে নেমেছে। মনে রাখবেন, যুদ্ধের আগে এটি ছিল মাত্র ৭২ ডলার। সাধারণ মানুষের পকেটে এর টান পড়তে শুরু করেছে।
পাল্টা হামলার চক্র: ইসরায়েল যখন ইরানের সাউথ পার্স গ্যাস ক্ষেত্রে হামলা চালালো, ইরান তার জবাব দিল কাতারের স্থাপনায় আঘাত করে। এখন ইরানের সামরিক বাহিনী সরাসরি হুমকি দিয়েছে—যদি তাদের জ্বালানি খাতে আর একটি আঁচড়ও লাগে, তবে তারা যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের পুরো জ্বালানি অবকাঠামো ‘সম্পূর্ণ ধ্বংস’ করে দেবে।
সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর খবরটি সম্ভবত এটিই—একটি মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে, ওয়াশিংটন ইরানের একটি কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ দ্বীপ দখল করার পরিকল্পনা করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে যুদ্ধ “শেষ করার” ট্রাম্পের প্রতিশ্রুতি কি কেবলই কথার কথা?
হরমুজ প্রণালী কি উন্মুক্ত হবে, নাকি এটি বিশ্ব অর্থনীতির জন্য একটি স্থায়ী মরণফাঁদে পরিণত হবে? আমরা পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছি।
Leave a Reply