
আব্দুল আজিজ : (ধামইরহাট, নওগাঁ) : নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলার দিগন্তজোড়া মাঠজুড়ে এখন শুভ্রতার সমারোহ। যে বরেন্দ্র অঞ্চলে একসময় কেবল ধান আর গমের দাপট ছিল, সেখানে এখন অর্থকরী ফসল তুলার হাসিতে নতুন স্বপ্ন বুনছেন স্থানীয় কৃষকরা। বিশেষ করে উপজেলার খেরশুকনা ও জগদল বিহারসহ পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোতে তুলার অভাবনীয় সাফল্য লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
অনাবাদী জমিতে লাভের সুযোগ : আঞ্চলিক প্রতিনিধি জানাচ্ছেন, ধামইরহাটের অনেক উঁচু ও টাঙরা জমিতে যেখানে অন্য ফসলের আবাদ কষ্টসাধ্য, সেখানে তুলা চাষে দেখা দিয়েছে দারুণ সম্ভাবনা। স্থানীয় তুলা চাষি বাবলু বলেন:
“যে জমিতে অন্য কোনো ফসল ভালো হয় না, সেই জমিতে তুলার বাম্পার ফলন পাওয়া সম্ভব। এটি চাষ করা বেশ লাভজনক এবং আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে তুলার মানও চমৎকার হয়।”
তুলা উন্নয়ন বোর্ডের ব্যাপক সহযোগিতা
কৃষকদের এই সাফল্যে বড় অনুঘটক হিসেবে কাজ করছে তুলা উন্নয়ন বোর্ড। কৃষকদের দেওয়া তথ্যমতে, তুলা চাষে যে মোট খরচ হয়, তার প্রায় ৫০ শতাংশ সরকার বা তুলা উন্নয়ন বোর্ড থেকে সহায়তা হিসেবে দেওয়া হয়। এই আর্থিক ও কারিগরি সহায়তার কারণেই প্রান্তিক কৃষকরা তুলা চাষে দিন দিন আগ্রহী হয়ে উঠছেন।
প্রতিকূলতা ও প্রাপ্তি : চলতি মৌসুমে মাঝপথে কিছুটা নিম্নচাপ ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে চাষে সামান্য বিঘ্ন ঘটলেও, শেষ পর্যন্ত মাঠের চিত্র বেশ আশাব্যঞ্জক। কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঝড় বা অতিবৃষ্টির মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে তুলার এই ফলন স্থানীয় অর্থনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনবে।
সঠিক বাজারজাতকরণ এবং সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা অব্যাহত থাকলে ধামইরহাটের এই ‘সাদা সোনা’ বা তুলা অচিরেই দেশের টেক্সটাইল খাতের কাঁচামালের চাহিদা মেটাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
Leave a Reply