
মনোলোক : ময়মনসিংহ শহরের সানকিপাড়া এলাকায় এক ছাত্রের গভীর ঘুমকে কেন্দ্র করে লঙ্কাকাণ্ড ঘটে গেছে। ডাকাডাকিতে সাড়াশব্দ না পেয়ে ওই ছাত্রের বড় ধরনের কোনো বিপদের আশঙ্কায় খবর দেওয়া হয় পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসকে। তবে শেষ পর্যন্ত দরজা খুলে যা দেখা গেল, তাতে আতঙ্ক রূপ নিয়েছে হাসিতে।
গতকাল দুপুরে নগরীর সানকিপাড়া হেলথ অফিসার গলির একটি ছাত্র মেসে এই চাঞ্চল্যকর ও হাস্যকর ঘটনাটি ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই মেসের একটি রুমে এক শিক্ষার্থী দীর্ঘক্ষণ ধরে দরজা বন্ধ করে ঘুমাচ্ছিলেন। দুপুরে রুমমেটরা তাকে খাওয়ার জন্য বা অন্য প্রয়োজনে বারবার ডাকাডাকি করলেও ভেতর থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যাচ্ছিল না। দরজায় সজোরে ধাক্কাধাক্কি করেও কোনো কাজ না হওয়ায় মেসের অন্য শিক্ষার্থীদের মনে সন্দেহের দানা বাঁধে। তারা ভয় পেয়ে যান যে ভেতরে হয়তো কোনো দুর্ঘটনা ঘটেছে বা শিক্ষার্থীটি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।
এক পর্যায়ে বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে হুলুস্থুল পড়ে যায়। উপায়ান্তর না দেখে তাৎক্ষণিকভাবে খবর দেওয়া হয় পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসকে। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা। ওই ছাত্রের কোনো বড় বিপদ হয়েছে ভেবে তখন সেখানে উৎসুক জনতার ভিড় জমে যায়।
পরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা মেসের রুমের দরজা খুলে ভেতরে প্রবেশ করেন। কিন্তু ভেতরে গিয়ে উদ্ধারকারীদের চক্ষু চড়কগাছ! দেখা যায়, ওই শিক্ষার্থী কোনো বিপদে পড়েননি বা অসুস্থও নন; বরং অঘোরে নাক ডেকে ঘুমোচ্ছিলেন তিনি। পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের উপস্থিতিতে তার কাঁচা ঘুম ভাঙলে তিনি নিজেও ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে যান।
উদ্ধারকারী দল নিশ্চিত হয় যে, কোনো ক্লান্তি বা অন্য কোনো কারণে ওই শিক্ষার্থী এতটাই গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন ছিলেন যে বাইরের কোনো শব্দ বা চিৎকার তার কানে পৌঁছায়নি।
এই ঘটনার পর এলাকায় যেমন স্বস্তি ফিরেছে, তেমনি তৈরি হয়েছে হাস্যরসের। এলাকাবাসী ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারকারীরা মজা করে বলছেন, ‘এমন ঘুম তো সচরাচর দেখা যায় না, এ যেন বাস্তবের কুম্ভকর্ণ!’ বড় কোনো দুর্ঘটনা না হওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করে ফিরে গেছেন পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। তবে এই ‘নিদ্রা বিলাস’ নিয়ে এলাকায় এখনো চলছে রসালো আলোচনা।
Leave a Reply