
*প্রেম করে বিয়ে হয়েছিল নাজিফা আর আরিয়ান এর।সুখেই চলছিল সংসার।বিয়ের এক বছর পর ঘটল অঘটন।হঠাৎ রোড এক্সিডেন্টে মারা গেল আরিয়ান।আরিয়ান এর রেস্টুরেন্ট এর ব্যবসা ছিল।আর ফ্রিল্যান্সিং করে মোটামুটি ভালো অবস্থা ছিল বলা চলে।আরিয়ান এর মা-বাবা আলাদা থাকে।আরিয়ান এর বাবা সরকারি চাকরি করত।আরিয়ান এর একমাত্র ভাই ইউনিভার্সিটিতে পরে।মৃত্যুর পর নাজিফার সবকিছু যেন ওলট পালট হয়ে গেল।এ সময় নাজিফার মা-বাবা তাকে সান্ত্বনা দিত।একমাত্র ছোট বোন নিহা।ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষা দিল।নাজিফার মা-বাবা নাজিফাকে বিয়ে করার জন্য চাপ দিতে লাগল।তার জন্য ছেলেও দেখল।ছেলে ডিভোর্স।আগের ঘরে এক মেয়ে আছে।মেয়ে ছোট হওয়ায় মায়ের সাথে থাকে।কিন্তু নাজিফার ছেলেটিকে পছন্দ না।কিছুটা অহংকারী মনে হয় তার কাছে।আর তার সিগেরেট খাওয়ার অভ্যাস টাও পছন্দ করে না।নাজিফা ঠিক করেছে আরিয়ান এর ব্যাবসা দেখবে।বিয়ে করার সিদ্ধান্ত আপাতত বাদ।রেস্টুরেন্টে কাজ করতে করতে খেয়াল করল একটি ছেলে প্রায় সময় তার রেস্টুরেন্টে আসে।বিষয়টিকে তখন সে তেমন গুরুত্ব দেয় নি।জন্মদিনে তাঁকে দেওয়া গিফট দেখে বুঝতে পারল এটি তারই দেওয়া।গিফটের মধ্যে ছিল একটা চিরকুট,ফুল,কেক আর ডায়েরি।চিরকুটে লেখা শুধু তোমাকে আমি ভালোবাসি।আর ফোন নাম্বার দেওয়া।লিখা যদি আমাকে ভালো লাগে বিয়ে করতে চাও তবে আমাকে ফোন দেবে প্লিজ।আমি তোমার জন্য সব সময় অপেক্ষা করব।আর যদি না করো ভাববো আমার ভাগ্যে তুমি ছিলে না।

লেখিকা ফারজানা আফরোজ
নাজিফা অনেক ভাবল।চিরকুটটাও রেখেছিল ডায়েরির ভাঁজে।কেমন যেন ভালো লাগা কাজ করল ছেলেটিকে দেখে।অনেক খোঁজ করেও চিরকুটটি পেল না।কি করবে বুঝে উঠতে পারছে না।ছেলেটিও অপেক্ষায় রইলো।ফোন আর পেল না।এতক্ষণ ছেলেটির নামই বলা হয় নি।ছেলেটির নাম হৃদয়।বেসরকারি কলেজের শিক্ষক।মা নেই।বাবা আছে।বাবা পেশায় প্রেসের মালিক।ছেলের জন্য মেয়ে খুঁজছিল।অনেকটা জোর করছিল বিয়ে দেওয়ার জন্য। কিছুতেই রাজি হচ্ছে না।ওর বিশেষ গুন ছিল ভালো গাইতে পারত।ছোটবেলায় গান ও শিখেছিল।কিন্তু নিয়মিত করা হয় নি।নাজিফা মা-বাবার চাপেই বিয়ে করতে রাজি হলো।ছেলে দুই বছর পরেই বিদেশ চলে যাবে।কানাডায় ব্যাবসা আছে।মা সহ ওখানেই থাকে।বাবা নেই।এক পার্কে ঘুরতে গিয়েই হঠাৎ দেখা নাজিফা আর হৃদয়ের।দুজন দুজনকে চিনতে পারল।নাজিফার বরের সাথে পরিচয় করিয়ে দিল বন্ধু হিসেবে।ফোন নাম্বার দেওয়া-নেওয়া হলো।নাজিফার বরকে সব খুলে বলল।নাজিফাই প্রথমে ফোন দিল হৃদয়কে।বলল বিয়ে এখনো কর নি।আমি তোমার ফোন নাম্বার হারিয়ে ফেলেছিলাম।তাই আর ফোন করতে পারি নি।অনেক কথা হলো।অনেক বোঝানোর পর তারাই ঘটকের মাধ্যমে বিয়ে ঠিক করল।মেয়ে মোটামুটি সুন্দর।কিছুটা অভাবের সংসার।এতদিন সে রকম ভালো ছেলে পাওয়া যায় নি বলে।বিয়ে দিতে দেরি হয়ে গেল।বাবার ছোট একটা কাপড়ের দোকান।মেয়ের নাম তন্দ্রা।বাবাকে সাহায্যের জন্য ছোট ছেলে মেয়েদের পড়ায়।নাজিফা আর হৃদয় বিদেশে যাওয়ার আগে চেয়েছিল বিয়ে দিয়ে যেতে।অবশেষে বসন্তের শুরুতে তাদের বিয়ে হলো।আর নাজিফা,আরিয়ানও বিদেশে র উদ্দেশ্য রওনা হলো।
Leave a Reply