
মনোলোক : পাক-আফগান দ্বন্দ্বে মধ্যস্থতা করতে চায় ইরান, তবে প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরকারী অন্য দেশের সঙ্গে কথা বলছে ইসলামাবাদ!
পাকিস্তান এবং আফগানিস্তানের সংঘাতে মধ্যস্থতা করার প্রস্তাব দিয়েছে প্রতিবেশী দেশ ইরান। এর মধ্যেই পাক বিদেশমন্ত্রী আবার কথা বলেছেন অন্য এক দেশের সঙ্গে।
পাকিস্তান এবং আফগানিস্তানের মধ্যে সংঘাত ঠেকাতে মধ্যস্থতা করার প্রস্তাব দিয়েছে ইরান। বৃহস্পতিবার সকালে সে দেশের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সমাজমাধ্যমে জানিয়েছেন, দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি করতে যে কোনও সাহায্যে ইরান প্রস্তুত। কিন্তু পাকিস্তান অন্য দেশের সঙ্গে কথা বলছে। পাক বিদেশমন্ত্রী ইশাক দার যোগাযোগ করেছেন সৌদি আরবের বিদেশমন্ত্রীর সঙ্গে। এই দেশের সঙ্গে পাকিস্তানের পারস্পরিক কৌশলগত প্রতিরক্ষা চুক্তি রয়েছে।
পাকিস্তান এবং আফগানিস্তান, দুই দেশই ইরানের সীমান্ত লাগোয়া। ফলে দুই পড়শির মধ্যে বিবাদ মেটাতে তৎপর হয়েছে পশ্চিম এশিয়ার দেশটি। সমাজমাধ্যমে ইরানের বিদেশমন্ত্রী লিখেছেন, ‘‘পাকিস্তান এবং আফগানিস্তানকে আলোচনায় বসাতে, তাদের মধ্যে সহযোগিতা ও বোঝাপড়া বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় যে কোনও সহায়তা করতে ইরান প্রস্তুত।’’ রমজান মাস চলছে। এই পবিত্র সময়ে সংঘর্ষ কাম্য নয় বলেও ইরানের বিদেশমন্ত্রী মনে করিয়ে দিয়েছেন। দুই দেশকে সংযত হওয়ার বার্তা দিয়েছে রাষ্ট্রপুঞ্জও।
পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রী ইশাক দার এখন সৌদি আরবেই রয়েছেন। আফগানিস্তানের সঙ্গে সংঘাত প্রসঙ্গে তাঁর সঙ্গে সৌদির বিদেশমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদের ফোনে কথা হয়েছে। সৌদির বিদেশ মন্ত্রক সমাজমাধ্যমে জানিয়েছে, পাকিস্তানের সঙ্গে আফগানিস্তানের সংঘাত নিয়ে দুই নেতা কথা বলেছেন। কী ভাবে ওই অঞ্চলে উত্তেজনা প্রশমন করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
গত বছর সেপ্টেম্বরে, ভারতের ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর চার মাস পরে সৌদির সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেছিল পাকিস্তান। পারস্পরিক কৌশলগত সেই প্রতিরক্ষা চুক্তিতে বলা হয়েছিল, স্বাক্ষরকারী কোনও দেশের বিরুদ্ধে তৃতীয় পক্ষের আগ্রাসন দুই দেশের বিরুদ্ধেই হামলা হিসাবে দেখা হবে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে। বৃহস্পতিবার রাতে পাকিস্তানে হামলা চালিয়েছে আফগান সেনা। তার জবাবে পাকিস্তানও পাল্টা হামলা করেছে। দু’পক্ষেই অনেকের মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি। এই পরিস্থিতিতে প্রতিরক্ষা চুক্তির শর্ত মনে করিয়ে সৌদির সাহায্য কি চাইবে পাকিস্তান? জল্পনা রয়েছে। কোনও দেশের পক্ষেই প্রতিরক্ষা চুক্তির প্রসঙ্গ প্রকাশ্যে উত্থাপন করা হয়নি। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের একাধিক রিপোর্টে দাবি, কাবুল-সহ আফগানিস্তানের গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলিতে পাকিস্তান হামলা চালিয়েছে। আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে অভিযানের নাম দেওয়া হয়েছে ‘অপারেশন ঘাজ়াব লিল হক’।
Leave a Reply