
হরমুজ প্রণালিতে কখনোই বিনা মূল্যে নিরাপত্তা পাওয়া যাবে না: ইরানের প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট محمد رضا عارف মুহাম্মদ রেদা আরিফ
মনোলোক / ২১ এপ্রিল ২০২৬ :
ইরানের প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ রেজা আরেফ কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইরান যে বিপুল সম্পদ ও শ্রম বিনিয়োগ করে, তার সুফল বিনা মূল্যে ভোগ করার কোনো সুযোগ নেই। বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের নির্বিঘ্ন সরবরাহ বজায় রাখার জন্য এই প্রণালির গুরুত্ব অপরিসীম, কিন্তু আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কিছু অংশ ইরানের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক ও সামরিক চাপ অব্যাহত রেখে একই সঙ্গে এই নিরাপত্তা প্রত্যাশা করছে, যা সম্পূর্ণরূপে গ্রহণযোগ্য নয়।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে (X) দেওয়া এক সিরিজে বিস্তারিত পোস্টে রেজা আরেফ নিজের বক্তব্যকে আরও স্পষ্ট করেন। তিনি বলেন, এটি অত্যন্ত অদ্ভুত ও অবিবেচনাপ্রসূত যে, কিছু দেশ একদিকে ইরানের জ্বালানি তেল রপ্তানিতে অবৈধ প্রতিবন্ধকতা তৈরি করতে চায় এবং ইরানের অর্থনীতিকে শ্বাসরুদ্ধ করার চেষ্টা চালায়, অথচ একই সঙ্গে তারা ইরানের উপকূলবর্তী ও কৌশলগত জলসীমা—হরমুজ প্রণালি—দিয়ে তাদের নিজস্ব বা মিত্রদের তেলের ট্যাংকারগুলোর জন্য বিনা মূল্যে ও সম্পূর্ণ নিরাপত্তা আশা করে।
ইরানের এই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা তাঁর বক্তব্যে এক স্পষ্ট বার্তা দিয়ে বলেন, বিশ্ব সম্প্রদায়ের সামনে এখন পছন্দের বিষয়টি একেবারেই সুস্পষ্ট। হয় ইরানের তেল রপ্তানি সহ সবার জন্য একটি উন্মুক্ত, ন্যায়সংগত ও কোনো রাজনৈতিক প্রতিবন্ধকতা মুক্ত তেলের বাজার নিশ্চিত করতে হবে, নয়তো কিছু দেশের এই বৈরী আচরণের জন্য বিশ্বকে একটি বড় ধরণের খেসারত দিতে হবে, যা সামগ্রিকভাবে বৈশ্বিক তেলের বাজার ও অর্থনীতির স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলবে। ইরান এই ধরণের দ্বিমুখী নীতির শিকার হয়ে চুপচাপ বসে থাকবে না।
বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামের চলমান অস্থিরতা প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে রেজা আরেফ দাবি করেন, বিশ্ববাজারে জ্বালানির দামের দীর্ঘস্থায়ী স্থিতিশীলতা শুধুমাত্র তখনই সম্ভব হবে, যখন ইরান ও তার আঞ্চলিক মিত্রদের ওপর চাপানো অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও সামরিক চাপের অবসান ঘটবে। তিনি দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, একটি নিরাপদ ও স্থিতিশীল হরমুজ প্রণালি সমগ্র বিশ্বের জ্বালানি নিরাপত্তার চাবিকাঠি। ইরান সবসময় এই অঞ্চলের নিরাপত্তা বজায় রাখার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে, কিন্তু এর জন্য যে বিনিময় মূল্য এবং বৈশ্বিক সহযোগিতা প্রয়োজন, তা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কেও তাদের দ্বিমুখী নীতি পরিহার করে এগিয়ে আসতে হবে।
রেজা আরেফের এই মন্তব্য ইরানের সরকার ও নীতি-নির্ধারকদের তরফ থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে, বিশেষ করে যখন পরমাণু চুক্তির ভবিষ্যত নিয়ে অনিশ্চয়তা ও পশ্চিমের সাথে ইরানের সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ছে। তাঁর এই মন্তব্য কি বিশ্ববাজারে অস্থিরতা বাড়াতে পারে বা হরমুজ প্রণালিতে আবার উত্তেজনা তৈরি করতে পারে, তা নিয়ে বিশেষজ্ঞ মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।
Leave a Reply