
মাইনুল মিসির / মনোলোক :
আজ থেকে প্রায় ১৪৫০ বছর আগে মরুভূমির বুকে দাঁড়িয়ে যখন মানব সৃষ্টির পুনর্জন্ম নিয়ে কথা বলা হয়েছিল, তখন অনেকেই একে অসম্ভব ও কল্পনাবিলাসী ভেবেছিল। মৃত্যুর পর মানুষের শরীর মাটিতে মিশে ধুলো হয়ে যায়—এটাই আমরা জানি। কিন্তু সেই ধুলো থেকে কি হাজার বছর পর আবার একজন আস্ত মানুষ তৈরি হওয়া সম্ভব? এই প্রশ্ন হাজার বছর ধরে মানুষকে ভাবিয়ে এসেছে।
তবে আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান ও জেনেটিক্স এখন যা বলছে, তা শুনলে আপনিও অবাক হবেন। মরুভূমির বুকে ঘোষিত সেই ‘অদৃশ্য’ সত্যই আজ বিজ্ঞানের ল্যাবে প্রমাণিত হচ্ছে।
কুরআন কী বলছে?
ইসলামিক বর্ণনা অনুযায়ী, কিয়ামতের দিন মানুষকে আবার জীবিত করা হবে। আল-কুরআনে বর্ণিত হয়েছে যে, মানুষের শরীরের সব অংশ পচে গলে মাটিতে মিশে গেলেও একটি নির্দিষ্ট অংশ কখনো নষ্ট হয় না। সেটি হলো মেরুদণ্ডের একেবারে নিচের একটি ছোট্ট হাড়, যাকে বলা হয় ‘আজবুজ জানাব’ (Ajbu-z-Zanab)। আল্লাহ তাআলা এই ক্ষুদ্র হাড় থেকেই পুনরায় প্রতিটি মানুষকে সৃষ্টি করবেন, ঠিক যেমন একটি বীজ থেকে বিশাল গাছ জন্মায়।
বিজ্ঞান কী খুঁজে পেল?
আধুনিক জেনেটিক্স এবং স্টেম সেল গবেষণা আজ এই বিষয়ে এক রোমাঞ্চকর তথ্য সামনে নিয়ে এসেছে। বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করেছেন যে, আমাদের মেরুদণ্ডের একদম শেষ প্রান্তে ‘কক্সিক্স’ (Coccyx) নামক একটি হাড় আছে, যা অত্যন্ত ব্যতিক্রমী।
বিজ্ঞানীদের গবেষণায় উঠে আসা কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য নিচে দেওয়া হলো:
অবিনশ্বর কোষ: অনেক গবেষক দাবি করেছেন যে, কক্সিক্স হাড়টি অত্যন্ত শক্ত। একে পুড়িয়ে ফেললেও, অ্যাসিডে নিমজ্জিত করলেও বা চরম চাপে রাখলেও এর ভেতরের মূল ডিএনএ বা কোষের তথ্য পুরোপুরি ধ্বংস করা প্রায় অসম্ভব। এটি যেন শরীরের এক পরম সংরক্ষিত ডেটাবেস।
ক্লোনিং ও ডিএনএ-র তথ্য: আধুনিক যুগে ক্লোনিং প্রযুক্তির মাধ্যমে আমরা জানি, শরীরের মাত্র একটি সুস্থ কোষ বা ডিএনএ থেকে ল্যাবরেটরিতে হুবহু একটি প্রাণী তৈরি করা সম্ভব। যদি কক্সিক্সের একটি ক্ষুদ্র কণাতেও মানুষের পূর্ণাঙ্গ ব্লু-প্রিন্ট বা ডিএনএ সংরক্ষিত থাকে, তবে সেখান থেকে পুনরায় মানুষ সৃষ্টি করা বৈজ্ঞানিকভাবে মোটেও অসম্ভব কিছু নয়।
স্টেম সেল ও ভ্রূণের মেমোরি: স্টেম সেল থিওরি অনুযায়ী, ভ্রূণ গঠনের সময় মেরুদণ্ডের এই অংশটিই প্রথম তৈরি হয় এবং এখান থেকেই শরীরের বাকি অংশগুলো বিকশিত হতে থাকে। এটি যেন শরীরের এক গোপন মেমোরি কার্ড, যেখানে আপনার অস্তিত্বের সব তথ্য জমা আছে এবং যা পুনরায় জীবন ধারণের জন্য প্রস্তুত।
এক অদ্ভুত মেলবন্ধন
ক্লোনিং এবং স্টেম সেল গবেষণার এই যুগ আমাদের দেখিয়ে দিচ্ছে যে, সৃষ্টির মূল নকশা যদি সংরক্ষিত থাকে, তবে পুনরায় জন্ম নেওয়া কেবল সময়ের ব্যাপার। ১৪০০ বছর আগে মাইক্রোস্কোপ বা ল্যাবরেটরি ছাড়াই এই ক্ষুদ্র হাড়ের তথ্য যে কতটা নির্ভুল ছিল, তা ভেবে বিশ্বজুড়ে বিজ্ঞানীরা বিস্মিত হচ্ছেন। ধর্ম আমাদের শেখায় যে, আমাদের এই শরীরের শেষ চিহ্নটুকুও পরম যত্নে সংরক্ষিত আছে। এটি কি শুধুই কাকতালীয়? নাকি এটি এক মহান পরিকল্পনাকারীর নিখুঁত ইঞ্জিনিয়ারিং?
আমাদের গন্তব্য কোথায়?
বিজ্ঞান আমাদের শেখাচ্ছে ‘কিভাবে’ সম্ভব, আর ধর্ম আমাদের মনে করিয়ে দিচ্ছে ‘কেন’ এটি ঘটবে। এই বিস্ময়কর মিল আমাদের বিশ্বাসের ভিত্তিকে আরও শক্তিশালী করে তোলে।
আপনি কি জানতেন আমাদের মেরুদণ্ডের এই হাড়টির ক্ষমতা সম্পর্কে? বিজ্ঞানের এই বিস্ময়কর মিল নিয়ে আপনার মূল্যবান মন্তব্য আমাদের সাথে শেয়ার করুন। আরও এমন অজানা তথ্য জানতে মনোলোক-এর সাথে থাকুন।
Leave a Reply