মনোলোক | রাজশাহী তারিখ: ১৫ এপ্রিল, ২০২৬
রাজশাহী: বই-খাতা গুছিয়ে যারা শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত থাকার কথা ছিল, তাদের চোখে এখন নোনা জল। রাজশাহীর বাঘা উপজেলার কেশবপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজের ৩৯ জন এসএসসি পরীক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ এখন এক গভীর অন্ধকারের মুখে। ফরম পূরণের টাকা জমা দিয়েও খোদ অধ্যক্ষের ‘চরম অবহেলায়’ এই শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
আগামী ২১ এপ্রিল থেকে সারাদেশে একযোগে শুরু হতে যাচ্ছে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। নিয়ম অনুযায়ী সব প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার কথা থাকলেও, মাত্র কয়েকদিন আগে শিক্ষার্থীরা জানতে পারে—তাদের ফরম পূরণই করা হয়নি। আরও বিস্ময়কর তথ্য হলো, ৩৯ জনের মধ্যে ৩৪ জনের নবম শ্রেণিতে যে রেজিস্ট্রেশন করার কথা ছিল, তা-ও সম্পন্ন করেনি প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ।

অধ্যক্ষ কামারুজ্জামান শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করলেও দোষ চাপিয়েছেন তার অধস্তন অফিস সহকারীর ওপর। ‘ব্যক্তিগত ঝামেলা’র অজুহাত দেখিয়ে তিনি নিজের তদারকির অভাবকে আড়াল করার চেষ্টা করছেন। যদিও তিনি দাবি করেছেন যে শিক্ষা বোর্ডের সাথে কথা বলে সমস্যার সমাধান করবেন, কিন্তু সময়ের হিসেবে তা এখন পাহাড়সম চ্যালেঞ্জ।
রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের স্কুল পরিদর্শক শামীম হাসান জানান, অধ্যক্ষ বোর্ডে আসলেও কোনো প্রয়োজনীয় হার্ড কপি বা সঠিক কাগজপত্র সাথে আনেননি। তবে তিনি আশ্বস্ত করেছেন:
“আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার হলো শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা। তদন্ত সাপেক্ষে দোষী অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান যখন ‘ব্যক্তিগত ঝামেলার’ দোহাই দিয়ে ৩৯টি পরিবারের স্বপ্নকে অনিশ্চয়তায় ঠেলে দেন, তখন প্রশ্ন ওঠে আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার জবাবদিহিতা নিয়ে। দরিদ্র পরিবারের এই শিক্ষার্থীরা তিল তিল করে জমানো অর্থ তুলে দিয়েছিল তাদের সোনালী ভবিষ্যতের আশায়। অধ্যক্ষের এই ‘খামখেয়ালি’ কি কেবলই অবহেলা, নাকি এর পেছনে রয়েছে অন্য কোনো রহস্য?
ভুক্তভোগী পরিবারগুলো এখন কেবল তাদের সন্তানদের একটি বছর ফিরে পেতে চায় না, তারা চায় এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি—যাতে আর কোনো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন এভাবে মাঝপথে থমকে না যায়।
মনোলোক-এর সাথেই থাকুন। সত্য ও ন্যায়ের পথে আপনার কণ্ঠস্বর।
Leave a Reply