
মনোলোক , নাঙ্গলকোট (কুমিল্লা) | ২৪ মার্চ ২০২৬
কুমিল্লা জেলার নাঙ্গলকোট থানার ঢাকা-নোয়াখালী মহাসড়ক সংলগ্ন ফিলিং স্টেশনগুলোতে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। পাম্প কর্তৃপক্ষের দাবি, সরকারের কাছে তেলের মজুদ থাকলেও ডিলার বা সরবরাহকারী পর্যায়ে জটিলতার কারণে তারা তেল পাচ্ছেন না।
পাম্প কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
লুদুয়া এ. মালেক অ্যান্ড সন্স ফিলিং স্টেশনের পরিচালক রেফায়েত হোসেন বুধবার সন্ধ্যায় এক সাক্ষাৎকারে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “গত শনিবার সন্ধ্যা থেকেই আমাদের পাম্পে ডিজেল ও অকটেন—দুটিই শেষ। অথচ গ্রাহকরা মনে করছেন আমরা ইচ্ছা করে তেল দিচ্ছি না। আসলে সরকারের কাছে তেল থাকলেও আমাদের পর্যন্ত তা পৌঁছানো হচ্ছে না।”
তিনি আরও জানান, সরবরাহকারীদের কাছে সাড়ে চার হাজার লিটার তেলের চাহিদাপত্র দেওয়া হলেও তারা সময়মতো সরবরাহ করছেন না। বৃহস্পতিবার আড়াই হাজার লিটার তেল আসার সম্ভাবনা থাকলেও তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। বর্তমানে শুধু ডিজেল আসার আশায় পাম্পটি খোলা রাখা হয়েছে।
চরম ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ
সামনে ঈদ, আর এই সময়ে তেলের এমন সংকটে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে মোটরসাইকেল চালক ও ব্যক্তিগত যানবাহনের মালিকরা পড়েছেন বিপাকে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ:
যাতায়াতে বাধা: ঈদের ছুটিতে স্বজনদের বাড়িতে যাওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও তেলের অভাবে অনেকেই যাত্রা বাতিল করছেন।
কালোবাজারি: পাম্পে তেল না পাওয়া গেলেও স্থানীয় বিভিন্ন বাজারে চড়া দামে তেল বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
আর্থিক ক্ষতি: তেলের সংকটের সুযোগ নিয়ে এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী কৃত্রিম সংকট তৈরি করে ফায়দা লুটছে।
দ্রুত পদক্ষেপের দাবি
সার্বিক পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষ ও পাম্প কর্তৃপক্ষ উভয়েই চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। ঈদের আগে এই সংকট নিরসন না হলে ঘরমুখো মানুষের ভোগান্তি চরমে পৌঁছাবে। তাই দ্রুত সরকারি হস্তক্ষেপ এবং তেলের নিরবিচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
Leave a Reply