
ঢাকা | ২৩ মার্চ, ২০২৬ : মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে বইছে প্রলয়ঙ্করী ঝড়। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (IRGC) দাবি করেছে, তাদের সাম্প্রতিক ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ-৪’-এর আওতায় পরিচালিত ৭৩তম অভিযানে বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে ইসরায়েল। ‘ইয়া হায়দার (আ.)’ কোডনামের এই হামলায় এখন পর্যন্ত ২০০-এর বেশি ইসরায়েলি হতাহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
হামলার মূল লক্ষ্য ও বিস্তৃতি
আইআরজিসির তথ্যমতে, এবারের হামলায় ইসরায়েলের উত্তর থেকে দক্ষিণ—কোনো অংশই বাদ যায়নি। বিশেষ করে দক্ষিণাঞ্চলের কৌশলগত শহরগুলো ছিল মূল টার্গেট:
আরাদ ও দিমোনা: অত্যন্ত সুরক্ষিত পরমাণু কেন্দ্র ও সামরিক এলাকা।
ইলাত ও বীরশেবা: গুরুত্বপূর্ণ বন্দর ও দক্ষিণাঞ্চলীয় কমান্ড সেন্টার।
কিরিয়াত গাত: গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা।
বিবৃতিতে আরও দাবি করা হয়েছে, শুধু ইসরায়েল নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি—আলি আল-সালেম, আল মিনহাদ ও আল দাফরা—তে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছে তেহরান।
কেন এই অভিযান আলাদা?
পর্যবেক্ষকদের মতে, এবারের অভিযানে ইসরায়েলের বিখ্যাত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা (যেমন- আয়রন ডোম বা অ্যারো) বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবফ কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন:
“দিমোনার মতো অতি-সুরক্ষিত এলাকা যদি ইসরায়েল রক্ষা করতে না পারে, তবে বুঝতে হবে যুদ্ধের সমীকরণ বদলে গেছে। ইসরায়েলের আকাশ এখন কার্যত অরক্ষিত।”
তথ্যের ওপর কঠোর সেন্সরশিপ?
অভিযোগ উঠেছে, হামলার ভয়াবহতা ও ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র আড়াল করতে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ সাংবাদিক ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করছে। তবে প্রাথমিক মাঠ-পর্যায়ের তথ্য বলছে, নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
মনোলোক বিশ্লেষণ
এই হামলা কি কেবলই একটি সামরিক পাল্টা জবাব, নাকি বড় কোনো যুদ্ধের চূড়ান্ত সূচনা? দিমোনার মতো এলাকায় আঘাত হানার সক্ষমতা প্রমাণ করে যে, ইরান এখন তাদের ‘পূর্ব-পরিকল্পিত’ পরবর্তী ধাপগুলো বাস্তবায়নের দিকে এগোচ্ছে। পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালানো এটাই ইঙ্গিত দেয় যে, তেহরান এখন সরাসরি সংঘাতে পিছুপা হতে রাজি নয়।
Leave a Reply