
মাইনুল মিসির / মনোলোক এক্সক্লুসিভ:
নিউইয়র্কভিত্তিক প্রভাবশালী ম্যাগাজিন ‘টাইম’ বিশ্বের ১০০ প্রভাবশালী ব্যক্তির তালিকা প্রকাশ করেছে। এই মর্যাদাপূর্ণ তালিকায় স্থান করে নিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ‘লিডারস’ বা নেতৃত্ব ক্যাটাগরিতে তাঁর এই অন্তর্ভুক্তি কেবল তাঁর ব্যক্তিগত সাফল্যই নয়, বরং বাংলাদেশের সমসাময়িক রাজনৈতিক দৃশ্যপটেও একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।

টাইম ম্যাগজিন
টাইম ম্যাগাজিন তাঁর প্রোফাইলে লিখেছে, “কয়েক মাস আগেও দক্ষিণ-পশ্চিম লন্ডনে নির্বাসিত জীবন কাটাচ্ছিলেন তারেক রহমান। কিন্তু ২০২৪ সালে স্বৈরাচারী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পতন তাকে বিরোধী আন্দোলনের নেতা থেকে জাতীয় নেতৃত্বের কেন্দ্রে নিয়ে আসে, যা তিনি ফেব্রুয়ারিতে বিপুল নির্বাচনী বিজয়ের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করেন।” এই বক্তব্য তারেক রহমানের রাজনৈতিক জীবনের নাটকীয় মোড় এবং বাংলাদেশের ক্ষমতার পরিবর্তনের একটি স্পষ্ট চিত্র তুলে ধরেছে।
টাইম ম্যাগাজিনের এই প্রতিবেদন আরও উল্লেখ করে যে, এই বিজয়ের মাধ্যমে তারেক রহমান তাঁর মা খালেদা জিয়ার পথ অনুসরণ করেন, যিনি বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। কিন্তু মায়ের মৃত্যুর মাত্র পাঁচ দিন পরেই তাঁর এই প্রত্যাবর্তন একটি ব্যক্তিগত শোকের বিষয় হলেও তিনি দেশ ও জাতির প্রতি তাঁর দায়িত্ববোধকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। জানুয়ারিতে টাইমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “ব্যক্তিগত শোককে তিনি দেশের ঐক্য প্রতিষ্ঠা ও অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করার কাজে নিয়োজিত করবেন।” এই বক্তব্য তাঁর রাজনৈতিক পরিপক্কতা এবং দেশের প্রতি ভালোবাসার একটি উজ্জ্বল উদাহরণ।
তবে এই উচ্চ মর্যাদায় পৌঁছা মানেই চ্যালেঞ্জের শেষ নয়। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, তরুণদের বেকারত্ব এবং আঞ্চলিক শক্তি ভারতের সাথে সম্পর্কের অবনতি—এই চ্যালেঞ্জগুলো দ্রুত সমাধানের দাবি রাখে। এছাড়া অতীতের দুর্নীতির অভিযোগও (যদিও আদালতে খারিজ হয়েছে) তাঁর রাজনৈতিক সময়কালকে সীমিত করতে পারে। কিন্তু দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক নির্বাসনের পর তিনি আর সময় নষ্ট করতে চান না।
তারেক রহমান টাইমকে বলেন, “আমাদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে, ঐক্যবদ্ধ হতে হবে—যাতে মানুষ তাদের রাজনৈতিক অধিকার পায়।” এই উক্তি তাঁর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং দেশের প্রতি তাঁর অঙ্গীকারের একটি স্পষ্ট বার্তা।
তারেক রহমানের এই স্বীকৃতি কেবল তাঁর দলের কর্মী-সমর্থকদের জন্যই নয়, বরং পুরো বাংলাদেশের জন্য একটি গৌরবের বিষয়। এটি প্রমাণ করে যে, বিশ্বনেতৃত্বের মঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা ও প্রভাব বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমরা আশা করি, তিনি এই স্বীকৃতিকে দায়িত্ব হিসেবে গ্রহণ করবেন এবং দেশের উন্নয়ন ও জনকল্যাণে আরও সক্রিয়ভাবে কাজ করবেন।
Leave a Reply