
মনোলোক: ঢাকা | ২২ মার্চ, ২০২৬ : বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি করিডোর হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনার মুখে দাঁড়িয়ে আছে বিশ্ব। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটামের জবাবে এবার সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অবকাঠামোতে পাল্টা হামলার কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। দুই দেশের এই পাল্টাপাল্টি অবস্থানে মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের যুদ্ধের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
ট্রাম্পের ‘ধ্বংসাত্মক’ আল্টিমেটাম
গত শনিবার (২১ মার্চ) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে সরাসরি সময়সীমা বেঁধে দেন। তিনি ঘোষণা করেন, “ইরান যদি ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কোনো হুমকি ছাড়াই হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে না দেয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র তাদের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে হামলা চালিয়ে ধ্বংস করে দেবে। লক্ষ্যবস্তু হিসেবে প্রথমে বেছে নেওয়া হবে ইরানের সবচেয়ে বড় বিদ্যুৎকেন্দ্রটিকে।”
ট্রাম্পের এই চরমপত্র মূলত বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা এবং সম্প্রতি কাতারের এলএনজি সক্ষমতার ওপর ইরানি হামলার প্রেক্ষাপটে এসেছে। উল্লেখ্য, ওই হামলায় কাতারের এলএনজি উৎপাদনের ১৭ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা মেরামত করতে অন্তত পাঁচ বছর সময় লাগতে পারে।
তেহরানের ‘অন্ধকার’ করার পাল্টা হুমকি
ট্রাম্পের এই হুমকির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কড়া প্রতিক্রিয়া জানায় ইরান। দেশটির খাতামুল আম্বিয়া সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র ইব্রাহিম জুলফাকারি এক বিবৃতিতে বলেন, “যদি ইরানের জ্বালানি বা বিদ্যুৎ অবকাঠামোতে কোনো আঘাত আসে, তবে পুরো অঞ্চলের জ্বালানি ও তথ্যপ্রযুক্তি অবকাঠামোতে পাল্টা আঘাত করা হবে।”
ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের লক্ষ্যবস্তুতে কেবল মার্কিন সামরিক ঘাঁটি নয়, বরং এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মালিকানাধীন:
সব ধরনের জ্বালানি স্থাপনা
লবণাক্ত পানি পরিশোধন কেন্দ্র (Water Desalination Plants)
গুরুত্বপূর্ণ তথ্যপ্রযুক্তি কেন্দ্রসমূহ
এর আগেই ইরান ইসরায়েলের বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলোর একটি মানচিত্র প্রকাশ করে জানিয়েছিল, সেখানে ‘পিন-পয়েন্ট’ নিখুঁত ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জন্য তারা সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
‘আধা ঘণ্টায় সব অন্ধকার হয়ে যাবে’
এই উত্তেজনার রেশ ধরে ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব ও সর্বোচ্চ নেতার উপদেষ্টা আলী লারিজানি ট্রাম্পকে সতর্ক করে বলেছেন, “ট্রাম্প দাবি করেছেন তিনি এক ঘণ্টায় ইরানের বিদ্যুৎ সক্ষমতা ধ্বংস করতে পারেন। যদি তারা সেই দুঃসাহস দেখায়, তবে আধা ঘণ্টার মধ্যেই গোটা অঞ্চল অন্ধকারে নিমজ্জিত হবে।” তিনি আরও যোগ করেন, সেই অন্ধকার আমেরিকান সেনাদের পালানোর পথ বন্ধ করে দেবে এবং তারা ইরানি বাহিনীর শিকারে পরিণত হবে।
খাদের কিনারায় বিশ্ব অর্থনীতি
বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ (২০ শতাংশ) এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। বর্তমানে এই জলপথ কার্যত বন্ধ থাকায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট তীব্রতর হচ্ছে। ট্রাম্পের বেঁধে দেওয়া ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা যত ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে সংঘাতের আশঙ্কা। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দুই পক্ষই যদি তাদের অবস্থানে অনড় থাকে, তবে বিশ্ব অর্থনীতি এক অপূরণীয় বিপর্যয়ের মুখে পড়বে।
Leave a Reply