
মনোলোক / তেহরান, ইরান : ইসরায়েল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নৃশংস আগ্রাসন এবং অশুভ পরিকল্পনার বিরুদ্ধে ইরানি জাতির বীরত্বপূর্ণ প্রতিরোধে বিস্মিত গোটা বিশ্ব। আক্রমণের শুরুতে শত্রুপক্ষ দ্রুত লক্ষ্য অর্জনের স্বপ্ন দেখলেও, দুই মাস পর বিশ্ব আজ স্বীকার করতে বাধ্য হচ্ছে যে—ইরানি জাতির শত্রুরা চূড়ান্তভাবে পরাজিত হয়েছে।
ইরানি সংবাদমাধ্যম ইরনা এবং পার্সটুডে সূত্রে জানা গেছে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতৃত্ব এবং বিশিষ্ট সামরিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের শহীদ করার মাধ্যমে শত্রুর প্রধান লক্ষ্য ছিল দেশটির রাজনৈতিক পতন ঘটানো। তারা চেয়েছিল ইরানের সার্বভৌমত্ব ও আত্মরক্ষার ক্ষমতাকে পঙ্গু করে দিতে। কিন্তু শহীদ নেতাদের দূরদর্শিতা, সরকারি কর্মকর্তাদের সাহস এবং সাধারণ জনগণের অবিচল সমর্থন শত্রুর সেই নীল নকশাকে ব্যর্থ করে দিয়েছে।
রণক্ষেত্র ও কূটনীতির সমন্বয়
বর্তমানে ইরানের রণক্ষেত্র এবং কূটনীতির ময়দান—উভয় পক্ষই একটি অভিন্ন লক্ষ্যে কাজ করছে: ‘জাতীয় স্বার্থ রক্ষা’। ইরানের অভ্যন্তরে রাজনৈতিক বিভেদ সৃষ্টির যে কৃত্রিম চেষ্টা শত্রুপক্ষ করেছিল, তার উপযুক্ত জবাব দিয়েছে দেশটির শীর্ষ নেতৃত্ব। মার্কিন প্রেসিডেন্টের সাম্প্রতিক দাবির প্রেক্ষিতে ইরানি কর্মকর্তাদের একটি যৌথ বার্তা এখন বিশ্ব গণমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।
এক আল্লাহ, এক জাতি, এক নেতা
গতকাল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, সংসদ স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কলিবফ এবং বিচার বিভাগের প্রধান গোলাম হোসেন মোহসেনি এজেই একযোগে একটি শক্তিশালী বার্তা প্রদান করেছেন। #OurIran হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে প্রকাশিত এই বার্তার শিরোনাম ছিল— “এক আল্লাহ, এক জাতি, এক নেতা এবং এক পথ; আর এটাই ইরানের বিজয়ের পথ, যা জীবনের চেয়েও প্রিয়।”
যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়:
“আমাদের ইরানে আজ কোনো ‘কট্টরপন্থী’ বা ‘উদারপন্থী’ ভেদাভেদ নেই। আমরা সবাই কেবল ‘ইরানি’ এবং ‘বিপ্লবী’। জাতি ও সরকারের এই লৌহকঠিন ঐক্য এবং সর্বোচ্চ নেতার প্রতি পূর্ণ আনুগত্যের মাধ্যমে আমরা যেকোনো আগ্রাসনকারীকে অনুতপ্ত করতে প্রস্তুত।”
শত্রুর জন্য কড়া বার্তা
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ঐক্যবদ্ধ বার্তাটি সরাসরি মার্কিন-ইসরায়েলি জোটকে এই বার্তাই দিচ্ছে যে, ইরান কোনোভাবেই অভ্যন্তরীণভাবে বিভক্ত নয়। যেকোনো অশুভ শক্তির কৃত্রিম মেরুকরণের ঊর্ধ্বে উঠে ইরানি জাতি আজ তাদের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বদ্ধপরিকর।
শত্রুর আগ্রাসন রুখে দিয়ে এই বিজয় কেবল সামরিক নয়, বরং রাজনৈতিক ও নৈতিক বিজয় হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
সূত্র: পার্সটুডে/ইরনা/এমআরএইচ
সম্পাদনা: মনোলোক নিউজ ডেস্ক
Leave a Reply