
মনোলোক ডেস্ক | ২৪ এপ্রিল, ২০২৬ :
উত্তর আমেরিকায় অনুষ্ঠেয় ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ডামাডোলের মধ্যে এক নাটকীয় মোড় দেখা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ এক বিশেষ প্রতিনিধি ফিফার কাছে এক নজিরবিহীন অনুরোধ জানিয়েছেন। তার দাবি, রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইরানের পরিবর্তে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালিকে টুর্নামেন্টে অন্তর্ভুক্ত করা হোক।
উত্তেজনার কেন্দ্রে পাওলো জাম্পোলি
যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত এবং ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী পাওলো জাম্পোলি এই চাঞ্চল্যকর প্রস্তাবটি পেশ করেছেন। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান ভূ-রাজনৈতিক সংঘাতের কারণে ইরানি দলের অংশগ্রহণ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। জাম্পোলি ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে উদ্দেশ্য করে বলেন:
“ইতালি চারবারের চ্যাম্পিয়ন। তাদের যে ঐতিহ্য এবং দক্ষতা রয়েছে, তাতে বিশ্বকাপে তাদের অন্তর্ভুক্তি পুরোপুরি যুক্তিযুক্ত। আমি ট্রাম্প এবং ইনফান্তিনো উভয়কেই প্রস্তাব দিয়েছি যেন ইরান সরে গেলে সেই শূন্যস্থান ইতালিকে দিয়ে পূরণ করা হয়।”
ইরানের দোদুল্যমান অবস্থান
ইরান আগেই ইঙ্গিত দিয়েছিল যে, নিরাপত্তাজনিত কারণে তাদের ম্যাচগুলো যুক্তরাষ্ট্র থেকে মেক্সিকোতে সরিয়ে নেওয়ার জন্য তারা ফিফার কাছে আবেদন করেছে। ইরান ফুটবল ফেডারেশন জানিয়েছিল, ফিফার উত্তরের ওপর ভিত্তি করেই তারা বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। তবে গত কয়েক দিনে ইরানের সরকারি মুখপাত্র ফাতেমেহ মোহাজেরানি জানিয়েছেন, তাদের সংস্থাগুলো বিশ্বকাপের জন্য প্রস্তুতি শুরু করেছে, যদিও সংশয় পুরোপুরি কাটেনি।
ইতালির পুনর্জন্মের আশা?
২০১৪ সালের পর থেকে বিশ্বমঞ্চে অনুপস্থিত ইতালি টানা তৃতীয়বারের মতো যোগ্যতা অর্জন করতে ব্যর্থ হয়েছে। গত মার্চে প্লে-অফ ফাইনালে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার কাছে নাটকীয়ভাবে পেনাল্টিতে হেরে যায় আজজুরিরা। জাম্পোলির এই প্রস্তাব ইতালীয় সমর্থকদের মনে ক্ষীণ আশা জাগালেও ফুটবল বিশ্লেষকরা একে ‘অবাস্তব’ বলে অভিহিত করছেন।
ফিফার অবস্থান
এখন পর্যন্ত ফিফা এই প্রস্তাবের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো সম্প্রতি ওয়াশিংটনে এক অনুষ্ঠানে বলেছিলেন, “ইরান যোগ্য দল হিসেবেই খেলার অধিকার অর্জন করেছে এবং তারা বিশ্বকাপে অংশ নেবে।” ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, কোনো দেশ স্বেচ্ছায় নাম প্রত্যাহার করলে বা বহিষ্কৃত হলে বিকল্প দল বাছাইয়ের ক্ষমতা ফিফা কাউন্সিলের হাতে থাকে।
একনজরে বর্তমান পরিস্থিতি:
ইরানের গ্রুপ: গ্রুপ ‘জি’ (প্রতিপক্ষ: বেলজিয়াম, মিশর ও নিউজিল্যান্ড)।
ইতালির অবস্থা: বাছাইপর্বে ব্যর্থ হয়ে বর্তমানে টুর্নামেন্টের বাইরে।
মূল বিতর্ক: খেলাধুলায় রাজনীতির প্রভাব এবং ঐতিহ্যের ভিত্তিতে দল নির্বাচন।
যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে ইরান শেষ পর্যন্ত মাঠে নামবে, নাকি ইতালির ভাগ্যের চাকা ঘুরে যাবে—তা জানতে ফুটবল বিশ্বকে আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে।
Leave a Reply