আহাম্মেদুল কবির, কুড়িগ্রাম / মনোলোক
শারীরিক অসুস্থতা আর সামাজিক প্রতিকূলতা কোনোটিই দমাতে পারেনি কুড়িগ্রামের হাওয়া আক্তারকে। সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে কন্যাসন্তান জন্ম দেওয়ার মাত্র তিন দিন পরই পরীক্ষা কেন্দ্রে হাজির হয়ে অদম্য ইচ্ছাশক্তির এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তিনি।
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ঘোগাদহ ইউনিয়নের হযরত আলীর মেয়ে হাওয়া আক্তার। গত ১৮ এপ্রিল অস্ত্রোপচারের (সিজার) মাধ্যমে তিনি একটি ফুটফুটে কন্যাসন্তান জন্ম দেন। অপারেশনের ধকল কাটিয়ে ওঠার আগেই শুরু হয় এবারের এসএসসি পরীক্ষা। শারীরিক চরম দুর্বলতা থাকা সত্ত্বেও নিজের লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হননি তিনি।
গতকাল পরীক্ষার প্রথম দিনে কুড়িগ্রাম আলিয়া কামিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশ নেন হাওয়া। একদিকে শারীরিক যন্ত্রণা, অন্যদিকে কোলের শিশু—সবকিছু সামলে তিনি কেন্দ্রে উপস্থিত হন।
”নবজাতককে নিয়ে পরিবারের সদস্যরা কেন্দ্রের পাশের একটি কক্ষে অবস্থান করছিলেন। পরীক্ষার বিরতিতে মা গিয়ে সন্তানের যত্ন নিচ্ছিলেন, আবার ফিরে আসছিলেন উত্তরপত্রে নিজের ভবিষ্যৎ গড়তে।”
কেন্দ্রের প্রিন্সিপাল মাওলানা মুহাম্মদ নুর বখত মিঞা বলেন, “আমাদের কেন্দ্রে প্রায় ১১০০ পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে। তবে হাওয়া আক্তারের বিষয়টি আমাদের সবার নজর কেড়েছে। মাত্র তিন দিন আগে সিজারিয়ান অপারেশনের ধকল নিয়ে পরীক্ষায় বসা সত্যিই অদম্য ইচ্ছাশক্তির বহিঃপ্রকাশ। আমরা তাকে সব ধরনের সহযোগিতা করছি।”
হাওয়ার এই সাহসিকতা দেখে স্থানীয়রা ও সহপাঠীরা অভিভূত। অনেকেই বলছেন, পড়াশোনার প্রতি তার এই একাগ্রতা অন্য শিক্ষার্থীদের জন্য বড় অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। সন্তান সামলে এবং শারীরিক অসুস্থতা জয় করে হাওয়ার এই এগিয়ে চলা নারী শিক্ষার ক্ষেত্রেও এক সাহসী বার্তা দিচ্ছে।
মনোলোক ডেস্ক | আপনার পাশে, আপনার অনুপ্রেরণায়।
Leave a Reply