
নাসরীন হীরা : মনোলোক | ২৬ এপ্রিল ২০২৬
চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী জব্বারের বলীখেলা-এর ১১৭তম আসর আজ উৎসবমুখর পরিবেশে শুরু হয়েছে। প্রতি বছরের মতো ১২ বৈশাখ বিকাল ৩টায় শুরু হওয়া এই ঐতিহ্যবাহী প্রতিযোগিতায় এবার অংশ নিচ্ছেন প্রায় ১২০ জন বলী।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী। প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান এবং স্পন্সর প্রতিষ্ঠান বাংলালিংক-এর কর্মকর্তা সাঈদ হোসেন চৌধুরী।
আয়োজক কমিটির সভাপতি হাফিজুর রহমান জানান, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত বলীরা ইতোমধ্যে চট্টগ্রামে পৌঁছেছেন। কুমিল্লা, কক্সবাজার, সীতাকুণ্ড ও রাঙামাটিসহ নানা এলাকা থেকে প্রতিযোগীরা অংশ নিচ্ছেন। প্রতিযোগিতা কোয়ার্টার ফাইনাল, সেমিফাইনাল ও ফাইনাল ধাপে সম্পন্ন হবে, যেখানে সেরা ৮ জন বলী লড়াই করবেন চূড়ান্ত শিরোপার জন্য।
বলীখেলাকে কেন্দ্র করে লালদিঘি আবদুল জব্বার চত্বর এলাকাজুড়ে বসেছে দেশের অন্যতম বৃহৎ বৈশাখী মেলা। প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত এ মেলায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ব্যবসায়ীরা সাজিয়েছেন নানান পণ্যের পসরা। মাটির তৈজসপত্র, বেত ও বাঁশের আসবাব, শীতলপাটি, হাতপাখা, ফুলদানি, খেলনা, গৃহস্থালির সরঞ্জামসহ অসংখ্য পণ্য বিক্রি হচ্ছে।
মেলায় ইতোমধ্যে হাজারো মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। আন্দরকিল্লা থেকে কোতোয়ালী মোড়, জেল রোড ও কেসি দে রোডসহ আশপাশের সড়কজুড়ে দোকানপাট বসেছে। ক্রেতা-বিক্রেতাদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা। ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, শেষ পর্যন্ত ভালো বেচাকেনা হবে।
নিরাপত্তা নিশ্চিতে পুলিশের পক্ষ থেকে ওয়াচ টাওয়ার স্থাপনসহ বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এসএসসি পরীক্ষা চলমান থাকায় ২৬ এপ্রিল ভোরে মেলা সমাপ্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের সময় ১৯০৯ সালে আব্দুল জব্বার সওদাগর যুব সমাজকে সংগঠিত করতে এই কুস্তি প্রতিযোগিতার সূচনা করেন। সময়ের পরিক্রমায় এটি আজকের জনপ্রিয় জব্বারের বলীখেলা-এ রূপ নিয়েছে, যা চট্টগ্রামের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ।
Leave a Reply