
নিজস্ব প্রতিবেদক / মনোলোক / ঢাকা: ২৬ এপ্রিল, ২০২৬ :
যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসী ভিসা (ইমিগ্র্যান্ট ভিসা) পাওয়ার অপেক্ষায় থাকা বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য দুঃসংবাদ এসেছে। সরকারি সহায়তা বা ওয়েলফেয়ার গ্রহণের হার বেশি হওয়ার অজুহাতে বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য অভিবাসী ভিসা দেওয়ার প্রক্রিয়া অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করেছে মার্কিন প্রশাসন।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) ঢাকার মার্কিন দূতাবাস থেকে পাঠানো এক জরুরি বার্তায় এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। দূতাবাস জানিয়েছে, এই স্থগিতাদেশ গত ২১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকেই কার্যকর করা হয়েছে।
কেন এই স্থগিতাদেশ?
মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের বরাত দিয়ে বার্তায় জানানো হয়, তালিকায় থাকা ৭৫টি দেশের নাগরিকদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের করদাতাদের অর্থে পরিচালিত সরকারি সুযোগ-সুবিধা বা ‘পাবলিক চার্জ’ গ্রহণের প্রবণতা অনেক বেশি। এই দেশগুলোর অভিবাসীরা সে দেশে গিয়ে স্বাবলম্বী হওয়ার বদলে সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছেন বলে দাবি করছে বর্তমান মার্কিন প্রশাসন।
পর্যটক ও শিক্ষার্থীদের জন্য সুখবর
অভিবাসী ভিসা স্থগিত হলেও অ-অভিবাসী (Non-immigrant) ভিসার ক্ষেত্রে কোনো বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়নি। ফলে বাংলাদেশি শিক্ষার্থী, পর্যটক কিংবা ব্যবসায়িক প্রয়োজনে যারা মার্কিন ভিসা নিতে চান, তাদের জন্য প্রক্রিয়াটি আগের মতোই স্বাভাবিক থাকবে।
ট্রাম্পের সেই ‘তালিকা’ ও বাংলাদেশ
চলতি বছরের ৪ জানুয়ারি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ একটি তালিকা প্রকাশ করেন। ‘ইমিগ্র্যান্ট ওয়েলফেয়ার রেসিপিয়েন্ট রেটস বাই কান্ট্রি অব অরিজিন’ শীর্ষক ওই তালিকায় দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের ১২০টি দেশের অভিবাসীদের মধ্যে বাংলাদেশ ১৯তম অবস্থানে রয়েছে।
তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি অভিবাসী পরিবারগুলোর প্রায় ৫৪.৮ শতাংশ কোনো না কোনোভাবে সরকারি ওয়েলফেয়ার সুবিধা গ্রহণ করে। দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের মধ্যে ভুটান, আফগানিস্তান, পাকিস্তান ও নেপালও এই তালিকার ওপরের দিকে রয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতি
বর্তমানে যারা ডিভি লটারি বা ফ্যামিলি কোটায় অভিবাসী ভিসার জন্য আবেদন করে সাক্ষাৎকারের অপেক্ষায় ছিলেন, তাদের প্রক্রিয়াটি আটকে গেল। স্টেট ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, ভিসা স্ক্রিনিং ও যোগ্যতা নির্ধারণের মানদণ্ড পুনরায় যাচাই না করা পর্যন্ত এই স্থগিতাদেশ বহাল থাকবে। তবে দ্বৈত নাগরিকত্বের অধিকারী ব্যক্তিরা যদি তালিকার বাইরে থাকা কোনো দেশের পাসপোর্ট ব্যবহার করেন, তবে তারা এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়বেন না।
যুক্তরাষ্ট্রের এই আকস্মিক সিদ্ধান্তে বিপাকে পড়েছেন হাজার হাজার বাংলাদেশি পরিবার, যারা স্থায়ীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের স্বপ্ন দেখছিলেন।
Leave a Reply