
মনোলোক , যশোর | ২৭ এপ্রিল, ২০২৬ : যশোরের শার্শায় ঐতিহাসিক উলসী খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, একটি স্বার্থান্বেষী মহল নিজেদের রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের জন্য গণভোট ও ‘জুলাই সনদ’ নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে। এই ষড়যন্ত্রকারীদের কোনোভাবেই প্রশ্রয় দেওয়া চলবে না।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) দুপুরে যশোরের শার্শা উপজেলার উলসী খালের পাড়ে আয়োজিত এক সংক্ষিপ্ত জনসভায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এর আগে তিনি সকাল ১১টা ৫৫ মিনিটে কোদাল দিয়ে মাটি কেটে ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই খাল খনন কাজের শুভ সূচনা করেন।
ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন:
“জনগণ প্রমাণ করেছে তারা তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে কোনো কিছু চাপিয়ে দেওয়া মেনে নেয় না। যারা গণভোটের রায়কে ভিন্নখাতে নেওয়ার চেষ্টা করছে, তারা মূলত দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে ব্যাঘাত ঘটাতে চায়। জুলাই সনদের প্রতিটি শব্দ ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে।”
উন্নয়ন ও স্বনির্ভরতার ডাক
প্রধানমন্ত্রী ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাতকে দেশ গড়ার কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়ে সিঙ্গাপুরের উদাহরণ টানেন। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে সিঙ্গাপুরের অবস্থা আমাদের চেয়েও প্রতিকূল ছিল, অথচ আজ তারা উন্নতির শিখরে। আমরাও ইনশাল্লাহ পারব।
ঘোষিত ও চলমান কিছু উল্লেখযোগ্য কর্মসূচি:
নারীদের জন্য উচ্চশিক্ষা: মেয়েদের স্নাতক (ডিগ্রি) পর্যায় পর্যন্ত পড়াশোনা সম্পূর্ণ ফ্রি করার ঘোষণা এবং মেধাবীদের জন্য উপবৃত্তি।
স্মার্ট কার্ড সুবিধা: কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’ এবং সুবিধাবঞ্চিত নারীদের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’।
কর্মসংস্থান: বন্ধ থাকা মিল-কারখানা চালুর মাধ্যমে বেকারদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা।
পরিবেশ ও কৃষি: খাল খনন এবং খালের দুই পাশে ৩ হাজার বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি।
উলসী খালের গুরুত্ব
১৯৭৬ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে এই ৪ কিলোমিটার দীর্ঘ খালটি খনন করেছিলেন। দীর্ঘ সময় পর এটি আবার পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পটি সম্পন্ন হলে:
প্রায় ২০ হাজার কৃষক সরাসরি সেচ সুবিধা পাবেন।
বার্ষিক ১৪০০ টন অতিরিক্ত খাদ্যশস্য উৎপাদিত হবে।
অত্র অঞ্চলের ৭২ হাজার মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে উপকৃত হবে।
অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের সভাপতিত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি প্রমুখ। খাল খনন শেষে প্রধানমন্ত্রী দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন এবং খালের পাড়ে একটি গাছ রোপণ করেন।
মনোলোক – সত্যের সন্ধানে সার্বক্ষণিক।
Leave a Reply