
নিজস্ব প্রতিবেদক, রিয়াদ (বাথা) | মনোলোক
রিয়াদ, সৌদি আরব: মরুভূমির তপ্ত রোদে ঘাম ঝরিয়ে পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে গিয়ে নিজেই নিথর দেহ হয়ে গেলেন কুমিল্লার মাইনউদ্দিন। আজ সকালে রিয়াদের ব্যস্ততম বাথা এলাকায় বাসে ওঠার জন্য অপেক্ষারত অবস্থায় আচমকা মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। প্রবাসের ব্যস্ত রাজপথে সবার চোখের সামনেই নিভে গেল একটি তাজা প্রাণ।
ভাইয়ের সামনে ভাইয়ের নিথর দেহ
খবর পেয়ে পাগলের মতো ছুটে আসেন মাইনউদ্দিনের বড় ভাই। যে ভাইয়ের সাথে শৈশব কেটেছে, যার সাথে খুনসুটি আর অভিমান ছিল নিত্যদিনের সঙ্গী, সেই ভাইকে সাদা চাদরে ঢাকা অবস্থায় দেখে তিনি নির্বাক হয়ে যান। লাশের পাশে পাথরের মতো বসে থাকা বড় ভাইয়ের সেই করুণ চাহনি উপস্থিত সবার চোখে জল এনে দেয়। প্রবাসের মাটিতে এ যেন এক বিদীর্ণ করা দৃশ্য।
নেপথ্যে ঘাতক: কাজের চাপ ও এনার্জি ড্রিঙ্ক
অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত এক মাসে রিয়াদেই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে বেশ কয়েকজন প্রবাসীর। চিকিৎসকদের মতে এবং প্রবাসীদের অভিজ্ঞতায় এই অকাল মৃত্যুর পেছনে উঠে আসছে ভয়াবহ কিছু তথ্য:
অতিরিক্ত কাজের চাপ: বেশি টাকা আয়ের নেশায় প্রবাসীরা অতিরিক্ত পরিশ্রম করছেন।
মানসিক দুশ্চিন্তা: পরিবারের চাহিদা মেটানো আর ঋণের বোঝা তাদের হৃদযন্ত্রকে ক্লান্ত করে দিচ্ছে।
এনার্জি ড্রিঙ্কের মরণফাঁদ: ক্লান্তি দূর করতে অনেক শ্রমিক নিয়মিত রেডবুল (Red Bull) বা পাওয়ার হোর্স (Power Horse) এর মতো উচ্চমাত্রার ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় পান করছেন। এটি হৃদস্পন্দন অস্বাভাবিকভাবে বাড়িয়ে দিচ্ছে, যার চূড়ান্ত পরিণতি হচ্ছে হার্ট অ্যাটাক।
চিকিৎসার অভাব ও শেষ গন্তব্য
প্রবাসী শ্রমিকদের জন্য উন্নত চিকিৎসার সুযোগ সীমিত হওয়ায় অনেকেই অসুস্থ বোধ করার পর হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই মারা যাচ্ছেন। মৃত্যুর পর শুরু হয় আরেক লড়াই—লাশ দেশে পাঠানো। অনেক ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতা আর আর্থিক সংকটে পরিবার লাশ গ্রহণেও দ্বিধায় পড়ে যায়। তবুও শেষ পর্যন্ত অনেক ত্যাগ আর বেদনার সাক্ষী হয়ে কফিনবন্দী দেহ ফিরে যায় বাংলায়।
মনোলোক সতর্কতা:
আপনার জীবন আপনার পরিবারের জন্য সবচেয়ে দামী। অতিরিক্ত কাজের চাপ নেবেন না এবং কৃত্রিম শক্তিদায়ক পানীয় (Energy Drinks) পরিহার করুন। সুস্থ থাকুন, পরিবারের পাশে থাকুন।
সৌজন্যে: মনোলোক (Monolok) — সহানুভূতির সাথে সংবাদ
Leave a Reply