
নিজস্ব প্রতিবেদক | মনোলোক
লন্ডন/ঢাকা
ইরানের ওপর গত ২৮শে ফেব্রুয়ারি পরিচালিত মার্কিন ও ইসরায়েলি সামরিক হামলাকে সরাসরি ‘বেআইনি’ বলে অভিহিত করেছেন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মহাপরিচালক অ্যাগনেস ক্যালামার্ড। আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘ সনদের তোয়াক্কা না করে চালানো এই হামলাকে তিনি ‘বলপ্রয়োগের নিষেধাজ্ঞার’ স্পষ্ট লঙ্ঘন বলে বর্ণনা করেছেন।
সম্প্রতি এক কড়া বিবৃতিতে ক্যালামার্ড জানান, এই হামলার পর থেকে মধ্যপ্রাচ্য বা পশ্চিম এশিয়া জুড়ে সংঘাত ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এতে ৫,০০০-এরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং লক্ষ লক্ষ বেসামরিক নাগরিকের জীবন এখন চরম ঝুঁকির মুখে।
বেসামরিক স্থাপনায় আঘাত ও ‘গণহত্যার’ হুমকি
বিবৃতিতে ক্যালামার্ড উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, সংঘাত কেবল সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে সীমাবদ্ধ নেই; বরং পরিকল্পিতভাবে বেসামরিক অবকাঠামো ও সাধারণ মানুষের ওপর হামলা চালানো হচ্ছে। তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্টের ভূমিকার সমালোচনা করে বলেন:
“মার্কিন প্রেসিডেন্ট এই সময়ে যুদ্ধাপরাধ এবং এমনকি গণহত্যার নির্লজ্জ হুমকি দিয়েছেন। ইরানে একটি ‘পুরো সভ্যতা’ ধ্বংস করার যে হুমকি দেওয়া হয়েছে, তা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের পরিপন্থী।”
ব্যর্থ যুদ্ধবিরতি ও ফিলিস্তিন-লেবানন পরিস্থিতি
অ্যামনেস্টি প্রধান অভিযোগ করেন যে, গাজা ও লেবাননে যে তথাকথিত যুদ্ধবিরতি চুক্তিগুলো হয়েছিল, সেগুলো বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা দিতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। তার দেওয়া তথ্যমতে:
গাজা (২০২৫): যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও এ পর্যন্ত অন্তত ৭৬৫ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
লেবানন (২০২৪): দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলা ও বেসামরিক সম্পত্তি ধ্বংসের ঘটনা প্রায় প্রতিদিনের রুটিনে পরিণত হয়েছে।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান
মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফিরিয়ে আনতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে একটি ‘চূড়ান্ত সীমারেখা’ টানার আহ্বান জানিয়েছেন অ্যাগনেস ক্যালামার্ড। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এখন কোনো খণ্ডকালীন বা মৌখিক চুক্তি নয়, বরং একটি স্থায়ী ও প্রকৃত যুদ্ধবিরতি প্রয়োজন। এই লক্ষ্য অর্জনে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোতে চলমান সকল পক্ষের সশস্ত্র সংঘাতের সম্পূর্ণ অবসান ঘটাতে হবে বলে তিনি মনে করেন।
বিশ্বজুড়ে মানবাধিকার রক্ষায় সোচ্চার এই সংস্থাটির দাবি, এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এই আঞ্চলিক সংঘাত এক অপূরণীয় মানবিক বিপর্যয় ডেকে আনবে।
সূত্র: পার্সটুডে/এমআরএইচ/৩০
Leave a Reply