
নিজস্ব প্রতিবেদক | মনোলোক
যশোরের কেশবপুর পৌর এলাকায় এক মর্মান্তিক পারিবারিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। কেশবপুর পৌরসভার সাহাপাড়ায় নিজ বাড়িতে মেয়ের হাতে খুন হয়েছেন মা গৌরী রানী (৭৫)। পুলিশ ঘাতক মেয়ে দীপ্তি অধিকারীকে (৫০) আটক করেছে।
ঘটনার বিবরণ
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত গৌরী রানী মৃত কালিপদ অধিকারীর স্ত্রী। তার মেয়ে দীপ্তি অধিকারী মণিরামপুরের নাগরঘোপ এলাকায় থাকতেন। প্রায় ৩-৪ দিন আগে তিনি মায়ের বাড়িতে বেড়াতে আসেন। দীপ্তি অধিকারী দীর্ঘ দিন ধরে মানসিক ভারসাম্যহীনতায় ভুগছিলেন বলে জানা গেছে।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) গভীর রাতে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এলাকাবাসীর ধারণা, রাতে মা ও মেয়ে একসাথে থাকাকালীন দীপ্তি তরকারি কাটার বটি দিয়ে তার মায়ের কপাল ও মাথার পেছনে আঘাত করেন। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ফলে ঘটনাস্থলেই গৌরী রানীর মৃত্যু হয়।
যেভাবে জানাজানি হলো
মঙ্গলবার সকালে দীপ্তিকে তার শ্বশুরবাড়িতে নিয়ে যাওয়ার জন্য দেবর পবিত্র অধিকারী ওই বাড়িতে আসেন। তিনি বাড়ির দোতলায় গিয়ে গৌরী রানীর রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। এ সময় দীপ্তি অধিকারীকে পাশের বাথরুমে বিবস্ত্র অবস্থায় বসে থাকতে দেখা যায়।
পুলিশের পদক্ষেপ
খবর পেয়ে মঙ্গলবার দুপুরে কেশবপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বটির ভাঙা অংশ উদ্ধার করেছে।
কেশবপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শহিদুল ইসলাম জানান:
“খবর পেয়ে আমরা মরদেহ উদ্ধার করেছি এবং অভিযুক্ত দীপ্তি অধিকারীকে আটক করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে তিনি মানসিক ভারসাম্যহীন। এই ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”
এই ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সামান্য পারিবারিক অসতর্কতা এবং মানসিক অসুস্থতার এমন ভয়াবহ পরিণতি স্থানীয়দের স্তব্ধ করে দিয়েছে।
Leave a Reply