
মনোলোক ডেস্ক / ২ মে, ২০২৬
তেহরান/ব্রাসেলস: সাম্প্রতিক ইরান-পশ্চিম সামরিক সংঘাতে ন্যাটোর অপূরণীয় সামরিক ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সামনে এনেছেন জোটটির সাবেক সুপ্রিম অ্যালাইড কমান্ডার ওয়েসলি ক্লার্ক। তার ভাষ্যমতে, ইরানের সুনির্দিষ্ট হামলায় পশ্চিমা জোট এমন কিছু গুরুত্বপূর্ণ রাডার ব্যবস্থা হারিয়েছে, যেগুলোর বিকল্প এই মুহূর্তে খুঁজে পাওয়া প্রায় অসম্ভব।
রাডার ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় বড় আঘাত
সাবেক এই জেনারেল এক সাক্ষাৎকারে জানান, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ন্যাটোর নজরদারি এবং প্রতিরক্ষা কাঠামোর মূল স্তম্ভ হিসেবে পরিচিত বেশ কিছু উচ্চ-প্রযুক্তি সম্পন্ন রাডার ধ্বংস হয়েছে। তিনি বলেন,
“আমরা এমন কিছু রাডার হারিয়েছি, যেগুলোর প্রযুক্তিগত বিকল্প বর্তমানে আমাদের হাতে নেই। এগুলো ছাড়া আকাশপথের নিরাপত্তা বজায় রাখা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।”
অস্ত্রের মজুদ নিয়ে উদ্বেগ
জেনারেল ক্লার্ক সামরিক সক্ষমতা হ্রাসের একটি ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেন। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী:
টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র: বর্তমানে এই দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ ৫০ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে।
ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ ব্যবস্থা: ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মোকাবেলার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ সক্ষমতা ইতিমধ্যে ব্যবহার করা হয়েছে।
থাড (THAAD) ক্ষেপণাস্ত্র: উচ্চ-উচ্চতার এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মোট মজুদের অর্ধেকই শেষ হয়ে গেছে।
প্রতিস্থাপনে লাগবে দীর্ঘ সময়
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এই অত্যাধুনিক সরঞ্জামগুলো পুনরায় উৎপাদন করা সময়সাপেক্ষ এবং ব্যয়বহুল। ক্লার্ক সতর্ক করে বলেন, ধ্বংস হওয়া বা ব্যবহৃত হওয়া এই সরঞ্জামগুলোর প্রতিস্থাপন ও পুনরায় উৎপাদনে কয়েক বছর সময় লেগে যেতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন, ইরানের সঙ্গে চলমান এই সংঘাতে গোলাবারুদ ও সরঞ্জাম বাবদ খরচ ইতিমধ্যে ২৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। তবে অর্থের চেয়েও বড় সংকট হয়ে দাঁড়িয়েছে উৎপাদন সক্ষমতা।
সারসংক্ষেপ
ইরানের সামরিক কৌশলের মুখে ন্যাটোর কৌশলগত সরঞ্জাম এবং ক্ষেপণাস্ত্রের যে অভাব তৈরি হয়েছে, তা পশ্চিমা দেশগুলোর জন্য গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। জেনারেল ক্লার্কের এই স্বীকারোক্তি বর্তমান সংঘাতের তীব্রতা এবং পশ্চিমাদের প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতাকেই স্পষ্ট করে তুলছে।
সূত্র: পার্সটুডে/এস এ/১
Leave a Reply