
নিজস্ব প্রতিবেদক, ব্রাহ্মণবাড়িয়া | তারিখ: ১ মে, ২০২৬
ব্রাহ্মণবাড়িয়া: জেলা শহরের এক প্রভাবশালী চিকিৎসক দম্পতির বাসায় কাজ করতে গিয়ে ১১ বছরের এক কিশোরী গৃহকর্মী নির্মম শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। উদ্ধারকৃত ওই কিশোরীর নাম আয়েশা। সে বর্তমানে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছে। তার শরীরে ও মাথায় বিভিন্ন সময়ের পুরাতন ও নতুন আঘাতের অসংখ্য চিহ্ন পাওয়া গেছে।
নির্যাতনের এই গুরুতর অভিযোগ উঠেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের কুমারশীল মোড়ে অবস্থিত ঢাকা ল্যাব এইড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ব্রাহ্মণবাড়িয়া শাখার চিকিৎসক ডাঃ কে এম আব্দুল্লাহ আল নোমান এবং তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে।
নয় মাসের দুর্বিষহ বন্দিজীবন:
ভুক্তভোগী আয়েশার পরিবারের সাথে কথা বলে জানা যায়, প্রায় ৯ মাস আগে আয়েশার নানা তাকে ওই চিকিৎসক দম্পতির বাসায় গৃহপরিচারিকার কাজের জন্য দিয়েছিলেন। পরিবারের অভিযোগ, কাজে যোগ দেওয়ার পর থেকেই সামান্য ভুলত্রুটিতে তার ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালানো হতো। কিশোরী আয়েশার মাথায় থাকা সুন্দর লম্বা চুলগুলো কেটে তাকে চরমভাবে অপদস্থ করেন ওই চিকিৎসকের স্ত্রী। শুধু শারীরিক আঘাতই নয়, তাকে মানসিকভাবেও বিপর্যস্ত করে রাখা হয়েছিল।
পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন ও পুলিশের তৎপরতা:
গত তিন মাস ধরে আয়েশার পরিবারের সদস্যরা বারবার চেষ্টা করেও তার সাথে দেখা করতে পারেননি। আয়েশাকে তাদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া বা অন্তত একবার কথা বলতে দেওয়ার জন্য তারা চিকিৎসক দম্পতির কাছে বারবার আকুতি-মিনতি জানালেও তা নিষ্ঠুরভাবে প্রত্যাখ্যান করা হয়।
অবশেষে কোনো উপায় না পেয়ে আয়েশার পরিবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। জিডির গুরুত্ব অনুধাবন করে ২ নং পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আলাউদ্দিনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল বিশেষ অভিযানে ওই চিকিৎসকের বাসা থেকে আয়েশাকে উদ্ধার করে।
বর্তমান শারীরিক অবস্থা ও বিচার দাবি:
উদ্ধারের পর পুলিশ দ্রুত আয়েশাকে চিকিৎসার জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। হাসপাতালের দায়িত্বরত চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, মেয়েটির পিঠে, হাতে এবং শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে যা দীর্ঘদিনের নির্যাতনের সাক্ষ্য দিচ্ছে।
নির্যাতিতা কিশোরীর বাবা-মা কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, “আমরা আমাদের সন্তানকে কাজের জন্য দিয়েছিলাম, কিন্তু তারা কসাইয়ের মতো আমার মেয়ের ওপর অত্যাচার করেছে। আমরা এই চিকিৎসক দম্পতির দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।” আইনি পদক্ষেপ ও সামাজিক প্রতিক্রিয়া:
এই বর্বরোচিত ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ মানুষ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অভিযুক্ত চিকিৎসকের কঠোর শাস্তির দাবি জানাচ্ছেন।
সর্বশেষ আপডেট: পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাটি অধিকতর তদন্ত করা হচ্ছে। নির্যাতনের সত্যতা নিশ্চিত হলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন’ এবং ‘শিশু আইন-২০১৩’ অনুযায়ী নিয়মিত মামলা রুজু করা হবে। পুলিশ জানায়, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়, অপরাধী যেই হোক তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।
মনোলোক ডেস্ক: সমাজে এমন সংবেদনশীল এবং সেবামূলক পেশায় নিয়োজিত ব্যক্তিদের কাছ থেকে এ ধরণের অমানবিক আচরণ সমাজকে স্তব্ধ করে দেয়। শিশু সুরক্ষা আইনের যথাযথ প্রয়োগ এবং অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করাই এখন সময়ের দাবি, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো শিশুকে এভাবে নির্যাতনের শিকার হতে না হয়।
[বিস্তারিত আসছে…]
মনোলোক – সত্যের সন্ধানে নির্ভীক
Leave a Reply