
মনোলোক / আদমদীঘি (বগুড়া) :
বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহারে রেলওয়ের জায়গা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ইকবাল হোসেন (৫৬) নামে এক বিএনপি নেতাকে প্রকাশ্যে পেটে ছুরিকাঘাত করার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (২ মে, ২০২৬) দুপুরে সান্তাহার রেলগেট ও সুইচকেবিন সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহত ইকবাল হোসেন সান্তাহার পৌর বিএনপির সহ-সভাপতি এবং শহরের মাইক্রোস্ট্যান্ড মহল্লার মৃত মনসুর আলীর ছেলে। বর্তমানে তিনি নওগাঁ সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার পেটে ১২টি সেলাই দিতে হয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।
ঘটনার বিবরণ
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সান্তাহার রেলগেট থেকে স্টেশনে যাওয়ার রাস্তায় রেলওয়ের জায়গায় দীর্ঘদিন ধরে কিছু অস্থায়ী দোকান ছিল। সম্প্রতি রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সফরের কথা থাকায় দোকানগুলো সরিয়ে নেওয়া হয়। শনিবার দুপুর ১২টার দিকে ইয়ার্ড কলোনি এলাকার জনৈক শহিদের ছেলে নীরব পুনরায় সেখানে দোকান বসানোর জন্য রাস্তার ওপর খুঁটি পুঁতছিলেন।
রেলওয়ে পুলিশ (জিআরপি) ও স্থানীয়রা চলাচলের বিঘ্ন ঘটবে জানিয়ে খুঁটিটি কিছুটা পিছিয়ে সরাতে বলেন। বিএনপি নেতা ইকবাল হোসেনও তাকে খুঁটিটি সরিয়ে বসাতে বললে নীরব ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। বাগবিতণ্ডার একপর্যায়ে নীরবের ডাকে ২০-২৫ জন যুবক দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে সেখানে উপস্থিত হন এবং ইকবাল হোসেনকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়। হামলাকারীরা তার পেটে ছুরিকাঘাত করে দ্রুত পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে গুরুতর অবস্থায় নওগাঁ সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন।
বর্তমান পরিস্থিতি ও আইনি পদক্ষেপ
সান্তাহার রেলওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হাবিবুর রহমান জানান, খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। তিনি বলেন, “চলাচলের রাস্তায় অবৈধভাবে খুঁটি পোঁতাকে কেন্দ্র করে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত। ঘটনার পর অবৈধ দোকানগুলো উচ্ছেদ করা হয়েছে। আহত নেতার পরিবার থেকে এখনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি; মামলা দায়ের হলে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
সান্তাহার পৌর বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক গুড্ডু এহসান জানিয়েছেন, বর্তমানে ইকবাল হোসেন আশঙ্কামুক্ত। তবে এই ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
Leave a Reply