
মনোলোক : জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পাওয়া বিশিষ্ট অভিনেতা শামস সুমন আর নেই। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সন্ধ্যা পৌনে সাতটায় রাজধানীর ল্যাবএইড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার বয়স হয়েছিলো ৬১ বছর। তিনি দুই ছেলে ও এক মেয়ের জনক।
অভিনয় শিল্পী সংঘের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ মামুন অপু সাংবাদিকদের জানান, দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ থাকা এই অভিনেতা কার্ডিয়াক অ্যারেস্টে আক্রান্ত হয়ে না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন।
একসময়ের টিভি নাটকের জনপ্রিয় অভিনেতা শামস সুমন। মঞ্চ থেকে শুরু করে ছোট পর্দা ও বড়ো পর্দা দাপিয়ে বেড়িয়েছেন। কয়েক বছর ধরে টেলিভিশন নাটকে অনিয়মিত ছিলেন তিনি।
শামস সুমন ২০০৯ সালে শহীদুল ইসলাম খোকন পরিচালিত ‘স্বপ্নপূরণ’ সিনেমায় অনবদ্য অভিনয়ের জন্য শ্রেষ্ঠ অভিনেতা বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন। বড়ো পর্দার পাশাপাশি তিনি টিভি নাটকেও ছিলেন সমান জনপ্রিয়।
তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে- জয়যাত্রা, মন জানেনা মনের ঠিকানা, বিদ্রোহী পদ্মা, কক্সবাজারে কাকাতুয়া, চোখের দেখা, প্রিয়া তুমি সুখী হও, আয়না কাহিনী, নমুনা, হ্যালো অমিত।
দীর্ঘ সময় ধরে শামস সুমন একটি বেসরকারি রেডিও স্টেশনে উচ্চপদে কর্মরত ছিলেন। চাকরির ব্যস্ততার কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অভিনয়ে তাকে অনিয়মিত দেখা যেতো। বড়ো পর্দায় তাকে সর্বশেষ দেখা গেছে সানী সানোয়ার ও ফয়সাল আহমেদের যৌথ পরিচালনায় আলোচিত সিনেমা ‘মিশন এক্সট্রিম’-এ। সেখানে তিনি একজন পুলিশ কর্মকর্তার চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন। এরপর অসুস্থতার কারণে তিনি আর নতুন কোনো কাজে যুক্ত হতে পারেননি।
বুধবার সকাল ১০টায় চ্যানেল আই প্রাঙ্গণে জানাজা এবং সন্ধ্যায় রাজশাহীতে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হবে।
তার মৃত্যুতে শোবিজ অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সহকর্মী ও ভক্তরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই গুণী অভিনেতার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করছেন। হঠাৎ করে এভাবে চলে যাবেন শামস সুমন কেউ ভাতেও পারেনি।
Leave a Reply