
[ডেস্ক রিপোর্ট, মনোলোক | ০৩ মে, ২০২৬]
মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে এক চরম উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। মার্কিন-ইসরায়েলি যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ইরান এবার সরাসরি সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) ‘কঠোর আঘাত’ হানার পরিকল্পনা করছে বলে জানা গেছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদন থেকে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনটির মূল দিকগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
ইরানের সতর্কবার্তা: তেহরান আনুষ্ঠানিকভাবে সৌদি আরব ও ওমানকে জানিয়েছে যে, ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো মার্কিন-ইসরায়েলি পদক্ষেপের জবাবে তারা সংযুক্ত আরব আমিরাতকে লক্ষ্যবস্তু করবে।
আঞ্চলিক বিভেদ ও কৌশল: পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যকার অভ্যন্তরীণ বিভেদকে কাজে লাগানোই তেহরানের মূল কৌশল বলে মনে করা হচ্ছে।
বিশেষ করে সৌদি আরব ও আরব আমিরাতের দীর্ঘদিনের চাপা উত্তেজনাকে পুঁজি করে ইরান আরব রাজতান্ত্রিক সরকারগুলোকে আরও বিচ্ছিন্ন করতে চাইছে।
ওপেক ও অর্থনৈতিক টানাপোড়েন: মিডল ইস্ট আই-এর তথ্যমতে, এই মাসে ওপেক (OPEC) থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বেরিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত ইঙ্গিত দেয় যে, ইরানের সাথে সম্ভাব্য যুদ্ধ রিয়াদ ও আবুধাবিকে এক করার পরিবর্তে তাদের দূরত্ব আরও বাড়িয়ে দেবে।
সংঘাতের নতুন ক্ষেত্র: ইয়েমেন এবং সুদান—উভয় দেশেই সৌদি আরব ও আরব আমিরাত পরোক্ষভাবে একে অপরের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। এমনকি লিবিয়ার খলিফা হাফতারের সেনাবাহিনীকে আমিরাত থেকে বিচ্ছিন্ন করতে সৌদি আরবের অর্থায়নে পাকিস্তান থেকে অস্ত্র সরবরাহের মতো গুরুতর কৌশলগত লড়াইও চলছে।
কূটনৈতিক যোগাযোগ: এত উত্তেজনার মাঝেও ইরান ও সৌদি আরব তাদের সংলাপের পথ খোলা রেখেছে। গত মাসে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি এবং সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান এ বিষয়ে আলোচনা করেছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এই হুঁশিয়ারি কেবল সামরিক নয়, বরং একটি বড় ধরণের মনস্তাত্ত্বিক ও কৌশলগত চাল। এর মাধ্যমে তারা পারস্য উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (পিজিসিসি) দেশগুলোর ঐক্য নষ্ট করার চেষ্টা করছে।
সূত্র: পার্সটুডে/এমআরএইচ/৩
Leave a Reply