
মনোলোক ০৬ মে ২০২৬ : বিশেষ প্রতিবেদন, চেন্নাই: প্রথম বার নির্বাচনী ময়দানে নেমেই ভারতের দক্ষিণী রাজ্য তামিলনাড়ুর পাঁচ দশকের দ্বিমেরু রাজনীতিকে খড়কুটোর মতো উড়িয়ে দিয়েছে অভিনেতা বিজয়-এর (যিনি থলপতি নামে সমধিক পরিচিত) দল তামিলগা ভেট্রি কাজাগাম (TVK)। বিধানসভা নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফলে ২৩৪টি আসনের মধ্যে ১০৮টিতে জয়ী হয়ে একক বৃহত্তম দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে তারা। সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে সেলুলয়েডের ‘থলপতি’ এবার বাস্তবের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে চলেছেন। তবে সরকার গঠনের প্রয়োজনীয় ‘জাদুসংখ্যা’ বা একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা (১১৮টি আসন) পেতে এখনো ১০ জন বিধায়কের সমর্থন প্রয়োজন বিজয়ের।
এই রাজনৈতিক সমীকরণের আবহে আজ, মঙ্গলবার তামিলনাড়ুর রাজ্যপাল রাজেন্দ্র বিশ্বনাথ আরলেকরের সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছেন বিজয়। টিভিকে (TVK) সূত্রে খবর, সরকার গঠনের দাবি পেশের প্রাথমিক প্রক্রিয়া হিসেবে রাজ্যপালের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় চেয়েছেন তিনি। রাজভবনে যাওয়ার আগে আজ সকালেই দলের সদ্যনির্বাচিত বিধায়কদের নিয়ে একটি জরুরি বৈঠকে বসবেন এই অভিনেতা-রাজনীতিবিদ।
সরকার গঠনে ছোট দলগুলোর দিকে নজর
ম্যাজিক ফিগার ছুঁতে ছোট দলগুলোর সঙ্গে ইতিমধ্যেই যোগাযোগ শুরু করেছে টিভিকে-র শীর্ষ নেতৃত্ব। দলীয় সূত্রের দাবি, নির্বাচনে ৫টি আসন পাওয়া কংগ্রেস এবং ৪টি আসন পাওয়া পিএমকে (PMK) ইতিমধ্যেই বিজয়কে সমর্থন দেওয়ার ইঙ্গিত বা প্রস্তাব দিয়েছে। এই দুই দলের সমর্থন পেলে বিজয়ের ঝুলিতে আসবে ১১৭টি আসন, যা ম্যাজিক ফিগারের একেবারে দোরগোড়ায়।
অন্যদিকে, বাম দলগুলি টিভিকে-কে সমর্থন দেওয়ার বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি। ভিসিকে (VCK) কিংবা ডিএমডিকে (DMDK)-র মতো অন্য ছোট দলগুলিও তড়িঘড়ি কোনো সিদ্ধান্ত না নিয়ে পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখছে।
ব্যাকফুটে ডিএমকে ও এডিএমকে জোট
নির্বাচনের ফলাফলে স্পষ্ট যে, তামিলনাড়ুর দীর্ঘদিনের চেনা রাজনৈতিক সমীকরণ এবার সম্পূর্ণ বদলে গেছে।
ডিএমকে জোট: ক্ষমতা হারালেও ৫৯টি আসন (জোটগতভাবে ৭৩টি) পেয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্টালিনের ডিএমকে। স্বয়ং স্টালিন তাঁর শক্ত ঘাঁটি কোলাথুরে পরাজিত হয়েছেন।
এডিএমকে-বিজেপি জোট: জয়ললিতার দল এডিএমকে (৪৭টি আসন) এবং বিজেপির জোট পেয়েছে মোট ৫৩টি আসন।
বিজয়ের ‘নীতিগত শত্রু’ ও জোটের জটিলতা
রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন, আসন সংখ্যার ঘাটতি মেটাতে এডিএমকে-ও টিভিকে-র সঙ্গে জোটে যাওয়ার সুপ্ত ইচ্ছা প্রকাশ করেছিল। কিন্তু নির্বাচনী ময়দানে তারা লড়েছে বিজেপির সঙ্গে জোট বেঁধে। এদিকে, দল গঠনের পর থেকেই বিজেপি-কে নিজের ‘নীতিগত শত্রু’ বলে স্পষ্ট ঘোষণা করে রেখেছেন বিজয়।
স্বাভাবিকভাবেই আদর্শগত কারণে বিজেপি বা তাদের শরিক দলের হাত ধরা বিজয়ের পক্ষে অসম্ভব। এই পরিস্থিতিতে ধর্মনিরপেক্ষ ভাবমূর্তি বজায় রেখে কংগ্রেস ও অন্যান্য নির্দল বা ছোট আঞ্চলিক দলগুলোর সমর্থন নিয়ে থলপতি বিজয় কীভাবে সরকার গঠন করেন— এখন সেটাই দেখার। তামিলনাড়ুর মসনদে বসার এই টানটান রাজনৈতিক নাটক ঘিরে এখন পুরো ভারতের নজর চেন্নাইয়ের দিকে।
Leave a Reply