
মোঃ রবিউল ইসলাম মিনাল (গোদাগাড়ী, রাজশাহী): বাংলাদেশের প্রযুক্তি ও বিজ্ঞান খাতে এক নতুন যুগের সূচনা হতে যাচ্ছে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে গঠিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারে প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় উপদেষ্টার দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ রেহান আসিফ আসাদ (রাতুল)। রাজশাহীর গোদাগাড়ীর কৃতি সন্তান রেহান আসিফ বর্তমানে একযোগে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন। তাকে কেন্দ্র করে দেশের তরুণ সমাজ ও প্রযুক্তি খাতে এক নতুন উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়েছে।
শিক্ষা ও আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের অনন্য মেলবন্ধন
উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং পেশাদার জীবন অত্যন্ত সমৃদ্ধ, যা তাকে এই গুরুত্বপূর্ণ পদের জন্য অনন্য করে তুলেছে। তিনি বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বিদ্যাপীঠ ম্যাসাচুসেট্স ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (MIT) থেকে ম্যানেজমেন্ট ও ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতকোত্তর (MS) ডিগ্রি অর্জন করেন। এর আগে তিনি অস্ট্রেলিয়ার রয়্যাল মেলবোর্ন ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (RMIT) থেকে টেলিকম ও ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক সম্পন্ন করেন।
রাজনীতিতে আসার আগে তিনি বৈশ্বিক পর্যায়ে একজন সফল প্রযুক্তি নির্বাহী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তিনি বিশ্বখ্যাত পর্যটন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান Expedia Group-এর গ্লোবাল অপারেশনসের ভাইস প্রেসিডেন্ট (VP) হিসেবে সফলভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়াও জাতিসংঘ (WFP), এক্সপো ২০২০ দুবাই এবং আমেরিকান টেলিকম জায়ান্ট AT&T-তে তার উচ্চপদস্থ কাজের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে।
পারিবারিক ও রাজনৈতিক ঐতিহ্য
রাজশাহীর এক সম্ভ্রান্ত ও ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক পরিবারে জন্ম উপদেষ্টা রেহান আসিফ রাতুলের। তার বাবা ছিলেন প্রয়াত ড. এম আসাদুজ্জামান, যিনি বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (BMDA) প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ছিলেন এবং বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষি ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে অনন্য ভূমিকা রেখেছিলেন। পারিবারিক উত্তরাধিকার সূত্রে তিনি সাবেক স্বরাষ্ট্র ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী ব্যারিস্টার আমিনুল হক এবং সাবেক আইজিপি ড. এম এনামুল হক-এর ভাতিজা।
সরকারে উপদেষ্টা হিসেবে যোগদানের আগে তিনি বিএনপির রিসার্চ অ্যান্ড মনিটরিং সেলের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং দলের প্রযুক্তিগত ও কৌশলগত গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
মন্ত্রণালয়ের বিশেষ উদ্যোগ ও মহাপরিকল্পনা
দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই রেহান আসিফ আসাদ দেশের প্রযুক্তি খাতকে বিশ্বমানের পর্যায়ে নিয়ে যেতে বেশ কিছু যুগান্তকারী ও আধুনিক পদক্ষেপ হাতে নিয়েছেন:
সবার জন্য ইন্টারনেট: দেশের গুরুত্বপূর্ণ জনসমাগমস্থলে বিনামূল্যে বা সাশ্রয়ী মূল্যে দ্রুতগতির ইন্টারনেট নিশ্চিত করার কাজ ইতিমধ্যে শুরু করেছেন।
তরুণ ও ফ্রিল্যান্সারদের ক্ষমতায়ন: ৫ কোটিরও বেশি যুবককে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) শিক্ষায় দক্ষ করে তোলার সুদূরপ্রসারী লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন। এছাড়া ফ্রিল্যান্সারদের আন্তর্জাতিক পেমেন্ট গেটওয়ে (পেপাল বা সমমান) সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের জটিলতা নিরসনে কাজ করছেন।
ডিজিটাল আইডি ও নিরাপত্তা: আগামী ১৮ মাসের মধ্যে প্রতিটি নাগরিকের জন্য একটি সমন্বিত এবং সুরক্ষিত ডিজিটাল আইডি ও ডিজিটাল ওয়ালেট চালুর পরিকল্পনা রয়েছে তার।
৫জি ও সাইবার সুরক্ষা: দেশের ৯০ শতাংশ এলাকাকে দ্রুতগতির ৫জি নেটওয়ার্কের আওতায় আনা এবং জাতীয় ডেটা সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আধুনিক সাইবার নিরাপত্তা অবকাঠামো গড়ে তুলতে তিনি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
আগামীর প্রত্যাশা
উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ (রাতুল) বিশ্বাস করেন, প্রযুক্তিনির্ভর স্বচ্ছতা এবং উদ্ভাবনী শক্তিই হবে আগামী দিনের বাংলাদেশের মূল চালিকাশক্তি। তার এই আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক দূরদর্শিতার নেতৃত্বে দেশের প্রযুক্তি খাত জাতীয় জিডিপিতে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ অবদান রাখতে সক্ষম হবে বলে আশা করছেন খাত সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। বরেন্দ্রভূমির সন্তান থেকে দেশের আধুনিক প্রযুক্তির এই নতুন কারিগরের হাত ধরে বাংলাদেশ এক নতুন চূড়ায় পৌঁছাবে—এমনটাই প্রত্যাশা সবার।
Leave a Reply