
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র নাকি মার্কিন সেনাদের ‘বিদ্রোহ’? লোহিত সাগরে দাউদাউ করে জ্বলল ১ লক্ষ কোটির রণতরী!
লোহিত সাগরে ১ লক্ষ কোটির মার্কিন রণতরীতে আগুন: ক্ষেপণাস্ত্র হামলা নাকি অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলা?
আন্তর্জাতিক | মনোলোক, ২১ মার্চ, ২০২৬
সম্প্রতি লোহিত সাগরে মোতায়েনকৃত বিশ্বের সবচেয়ে বড় ও শক্তিশালী মার্কিন পারমাণবিক রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ড (USS Gerald R. Ford)-এ এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। প্রায় ১৩ বিলিয়ন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় ১ লক্ষ কোটি টাকার বেশি) মূল্যের এই রণতরীতে আগুনের খবর ছড়িয়ে পড়তেই আন্তর্জাতিক মহলে শুরু হয়েছে নানা গুঞ্জন। ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার চলমান উত্তেজনার মাঝে এই ঘটনাকে ঘিরে তৈরি হয়েছে রহস্যের ধোঁয়াশা।
ঘটনার সূত্রপাত ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ
গত ১২ মার্চ, ২০২৬ তারিখ সকালে রণতরীটির মূল লন্ড্রি (Laundry) বিভাগ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মার্কিন নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে দীর্ঘ ৩০ ঘণ্টা সময় লেগেছে। আগুনে রণতরীটির ব্যাপক ক্ষতি না হলেও নাবিকদের থাকার জায়গা (Sleeping quarters) পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে প্রায় ৬০০ নাবিক তাদের বিছানা হারিয়েছেন এবং বর্তমানে তারা জাহাজের মেঝে ও টেবিলের ওপর ঘুমাচ্ছেন। ধোঁয়ার কারণে প্রায় ২০০ জন নাবিক অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং ৩ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য হেলিকপ্টারে করে স্থানান্তর করা হয়েছে।
ইরানের দাবি বনাম মার্কিন ব্যাখ্যা
ঘটনার পরপরই ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যমগুলো দাবি করে যে, তাদের অত্যাধুনিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন হামলায় রণতরীটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তেহরানের পক্ষ থেকে একে মার্কিন আধিপত্যের ওপর এক বড় আঘাত হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মার্কিন সেনাদের মধ্যে ‘বিদ্রোহ’ (Mutiny) বা অন্তর্ঘাতমূলক কর্মকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকে দাবি করছেন, দীর্ঘ ৯ মাস সমুদ্রে থাকায় এবং লোহিত সাগরের অসহনীয় উত্তেজনার কারণে মার্কিন সেনাদের মনোবল ভেঙে পড়েছে, যা থেকে এই আগুনের সূত্রপাত।
তবে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) এই দুটি দাবিকেই সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের দাবি:
এটি কোনো যুদ্ধকালীন হামলা (Non-combat fire) নয়।
জাহাজের প্রপালশন সিস্টেম বা পারমাণবিক চুল্লি সম্পূর্ণ নিরাপদ রয়েছে।
অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত চলছে।
বর্তমান অবস্থা ও মেরামতের তোড়জোড়
বিশাল এই রণতরীটি বর্তমানে লোহিত সাগর ত্যাগ করে গ্রিসের সুদা বে (Souda Bay) বন্দরের দিকে রওনা হয়েছে। সেখানে অন্তত এক সপ্তাহ ধরে এর জরুরি মেরামত কাজ চলবে। উল্লেখ্য যে, এই রণতরীটি মার্কিন সামরিক অপারেশন ‘এপিক ফিউরি’ (Operation Epic Fury)-র অংশ হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন ছিল।
বিশেষজ্ঞের মত: প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, অগ্নিকাণ্ডটি যদি সত্যিই অভ্যন্তরীণ ত্রুটি থেকে হয়ে থাকে, তবে তা মার্কিন নৌবাহিনীর রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থার ওপর বড় প্রশ্ন চিহ্ন দাঁড় করিয়ে দেবে। আবার এটি যদি গোপন কোনো হামলা হয়, তবে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।
সব খবর সবার আগে জানতে চোখ রাখুন ‘মনোলোক’-
monolok.net
সংবাদ ও সত্যের সন্ধানে… প্রথমে সংবাদ, শেষে বিশ্লেষণ।
Leave a Reply