
মনোলোক রাজশাহী (গোদাগাড়ী): ৭ মে, ২০২৬ : রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার কাঁকনহাট রেলওয়ে স্টেশনের প্রধান লাইনের (মেইন লাইন) পাশে প্ল্যাটফর্ম ও ট্রেনে ওঠানামার জন্য র্যাম্প না থাকায় চরম দুর্ভোগ ও নিত্যদিনের দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন যাত্রীরা। এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি এবং স্টেশনে দ্রুত প্ল্যাটফর্ম ও র্যাম্প নির্মাণের দাবিতে এলাকার সর্বস্তরের জনগণ এক বিশাল মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন।
গত বুধবার (২৭ নভেম্বর) দুপুরে কাঁকনহাট রেলওয়ে স্টেশনের সামনেই এই মানববন্ধন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। চাঁপাইনবাবগঞ্জের সিসিডিবি-সিআরপির সহযোগিতায় ‘গোদাগাড়ী উপজেলা নেটওয়ার্ক কমিটি’ এই কর্মসূচির আয়োজন করে। মানববন্ধনে এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ব্যানার ও ফেস্টুন হাতে অংশ নিয়ে তাদের দীর্ঘদিনের ন্যায্য দাবি তুলে ধরেন।
সিসিডিবি-সিপিআরপির এরিয়া ম্যানেজার পিটার সরকারের পরিচালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য দেন গোদাগাড়ী উপজেলা নেটওয়ার্ক কমিটির সভানেত্রী দুলালী বেগম, কাঁকনহাট পৌর বিএনপির সভাপতি ও পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর জিয়াউল হক সরকার, পাকড়ি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য নুরুল ইসলাম বকুল, সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য লতিফা বেগম, রিশিকুল ইউপির সদস্য ফারুক হোসেন, সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য আলিয়া বেগম, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আব্দুল খালেক এবং মাদ্রাসা শিক্ষক মইনুল ইসলামসহ আরও অনেকে।
মানববন্ধনে স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই কাঁকনহাট স্টেশনটি দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ যাত্রী যাতায়াত করেন। এই রুট দিয়ে কমিউটার ট্রেন, মল্লিকা পুনর্ভবা, ঢালারচর এক্সপ্রেস, মেইল ট্রেন, মহানন্দা এক্সপ্রেস ও আন্তঃনগর বনলতা এক্সপ্রেসের মতো গুরুত্বপূর্ণ ট্রেনগুলো চলাচল করে। তবে দুঃখের বিষয় হলো, স্টেশনের শুধুমাত্র লুপ লাইনে প্ল্যাটফর্ম থাকলেও মেইন লাইনের পাশে কোনো প্ল্যাটফর্ম বা র্যাম্প নেই। ফলে ক্রসিংয়ের কারণে ট্রেন যখন মেইন লাইনে এসে দাঁড়ায়, তখন যাত্রীদের প্রায় মাটি থেকে সরাসরি ট্রেনে ওঠানামা করতে হয়, যা চরম ভোগান্তির সৃষ্টি করে। বিশেষ করে প্রবীণ নাগরিক, শিশু, নারী ও অসুস্থ যাত্রীদের কষ্টের কোনো সীমা থাকে না।
বক্তারা বলেন, মেইন লাইনে প্ল্যাটফর্ম না থাকায় প্রতিনিয়তই যাত্রীরা ওপর থেকে পড়ে গিয়ে হাত-পা ভাঙাসহ গুরুতর দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন। এমনকি বছরখানেক আগে এই স্টেশনের বুকিং সহকারী ফায়জানা ইয়াসমিন নিজেই ট্রেন থেকে নামতে গিয়ে পড়ে যান এবং তার পা ভেঙে যায়। রেলের নিজস্ব স্টাফই যেখানে নিরাপদ নন, সেখানে সাধারণ যাত্রীদের নিরাপত্তা কতটা ভঙ্গুর তা সহজেই অনুমেয়।
মানববন্ধনে বক্তারা অবিলম্বে মেইন লাইনে একটি সুপরিসর প্ল্যাটফর্ম ও র্যাম্প নির্মাণের পাশাপাশি ঢাকা-চাঁপাইনবাবগঞ্জ রুটে চলাচলকারী বিরতিহীন ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ ট্রেনের কাঁকনহাট স্টেশনে অন্তত এক মিনিটের জন্য হলেও বাণিজ্যিক স্টপেজ (যাত্রী ওঠানামার জন্য বিরতি) দেওয়ার জোর দাবি জানান।
কর্মসূচি শেষে আন্দোলনকারীরা তাদের দাবি আদায়ের লক্ষ্যে কাঁকনহাট স্টেশন মাস্টার শিরিন আক্তারের মাধ্যমে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) বরাবর এবং কাঁকনহাট পৌরসভার প্রশাসক শামসুল ইসলামের দপ্তরে একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন।
এ বিষয়ে কাঁকনহাট স্টেশন মাস্টার শিরিন আক্তার এলাকাবাসীর দাবির প্রতি পূর্ণ সহমত পোষণ করে বলেন, “এলাকাবাসীর এই দাবি অত্যন্ত যৌক্তিক। মেইন লাইনে প্ল্যাটফর্ম না থাকায় যাত্রীদের সত্যিই খুব কষ্ট ও ভোগান্তি পোহাতে হয়। আমরা তাদের স্মারকলিপিটি গ্রহণ করেছি এবং দ্রুত তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানাব।”
উপস্থিত সাধারণ মানুষ আশা প্রকাশ করেন, রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ আর কোনো বড় দুর্ঘটনার অপেক্ষা না করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এখানে প্ল্যাটফর্ম ও র্যাম্প নির্মাণ করে যাত্রীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করবে।
Leave a Reply