
নিজস্ব প্রতিবেদক, মনোলোক (নীলফামারী) : নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় বহুল আলোচিত কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের মামলার সকল আসামিকে গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সর্বশেষ মঙ্গলবার রাতে মামলার প্রধান পলাতক আসামি কাজল রানাকে (২১) গ্রেফতারের মধ্য দিয়ে এই অভিযানের সফল সমাপ্তি ঘটল। এর আগে মামলার অপর আসামি মুন্না ইসলাম মান্নানকে (২৪) ঢাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছিল।
সাঁড়াশি অভিযান ও গ্রেফতার
র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-১৩) ও ডিমলা থানা পুলিশের একটি চৌকস দল মঙ্গলবার রাত পৌনে ৯টার দিকে লালমনিরহাট জেলার হাতীবান্ধা উপজেলার একটি এলাকায় যৌথ অভিযান পরিচালনা করে। সেখানে এক আত্মীয়ের বাড়িতে আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় কাজল রানাকে গ্রেফতার করা হয়।
ডিমলা থানার উপ-পুলিশ পরিদর্শক (এসআই) ঠাকুর দাস গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অবস্থান শনাক্তের পর তাকে আটক করে ডিমলা থানায় নিয়ে আসা হয়েছে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৫ এপ্রিল দুপুরে এই ন্যাক্কারজনক ঘটনাটি ঘটে। ভুক্তভোগী কিশোরী উপজেলার তালতলা সরকারপাড়া গ্রামে নানির বাড়িতে থেকে পড়াশোনা করছিল। ঘটনার দিন সকালে তার মা ও নানি চিকিৎসার জন্য রংপুরে গেলে বাড়িটি ফাঁকা হয়ে পড়ে।
দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে একই গ্রামের কাজল রানা ও মুন্না ইসলাম মান্নান কিশোরীকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে পাশের একটি নির্জন ভুট্টাক্ষেতে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে মুখ বেঁধে আটকে রেখে সন্ধ্যা পর্যন্ত পালাক্রমে ধর্ষণ করে অভিযুক্তরা। সন্ধ্যা গড়িয়ে গেলেও কিশোরী বাড়ি না ফেরায় স্থানীয়রা তাকে রক্তাক্ত ও সংজ্ঞাহীন অবস্থায় উদ্ধার করে।
পুলিশের বক্তব্য ও পরবর্তী পদক্ষেপ
ডিমলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শওকত আলী সরকার জানান, বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর হওয়ায় পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছে। তিনি বলেন:
“ভিকটিমের পরিধেয় বস্ত্র থেকে সংগৃহীত আলামত এবং ডিএনএ পরীক্ষার প্রস্তুতি চলছে। ডিজিটাল ও বস্তুগত সাক্ষ্য প্রমাণের মাধ্যমে অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে আমরা কাজ করছি।”
গ্রেফতারকৃত আসামি কাজল রানাকে বুধবার বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হবে বলেও জানান তিনি। এই গ্রেফতারের খবরে এলাকায় স্বস্তি নেমে এসেছে এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
Leave a Reply