
মাইনুল মিসির, মনোলোক / ওয়াশিংটন ডি.সি. | : সোমবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সাথে চলমান সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালীর অচলাবস্থা নিয়ে কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, একটি চূড়ান্ত চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত ওয়াশিংটন তেহরানের ওপর চাপ অব্যাহত রাখবে এবং প্রয়োজনে হরমুজ প্রণালীতে স্থগিত করা সামরিক অভিযান ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ পুনরায় চালু করা হবে।
‘লাইফ সাপোর্টে’ যুদ্ধবিরতি
কয়েক মাসের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর গত এপ্রিল মাসে একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হলেও, সোমবার ট্রাম্পের বক্তব্যে তার ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ইরানের পক্ষ থেকে আসা একটি শান্তি প্রস্তাবকে “মূর্খতাপূর্ণ” ও “অগ্রহণযোগ্য” বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন ট্রাম্প। পরিস্থিতির বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি এক নাটকীয় উপমা ব্যবহার করে বলেন:
“যুদ্ধবিরতি এখন লাইফ সাপোর্টে আছে। ডাক্তার এসে বলছেন, ‘স্যার, আপনার প্রিয়জনের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা মাত্র এক শতাংশ’।”
তেলের বাজারে অস্থিরতা
রবিবার সন্ধ্যায় ট্রাম্প ইরানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার পরপরই বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম এক লাফে কয়েক শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ১০ সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে চলা এই উত্তেজনায় হরমুজ প্রণালী দিয়ে নৌচলাচল বিঘ্নিত হওয়ায় বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিনিয়োগকারীদের ধারণা, এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধ দীর্ঘায়িত হলে তেলের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যেতে পারে।
প্রজেক্ট ফ্রিডম: কেবল পাহারা নয়
গত সপ্তাহে শুরু হওয়া ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ অভিযানে হরমুজ প্রণালীতে আটকে পড়া জাহাজগুলোকে উদ্ধারের কাজ শুরু হয়েছিল। তবে কূটনৈতিক আলোচনার খাতিরে ৪৮ ঘণ্টার মাথায় তা স্থগিত করা হয়। ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, এবার অভিযান শুরু হলে তা কেবল বাণিজ্যিক জাহাজকে ‘এসকর্ট’ বা পাহারা দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং এর পরিধি আরও বৃদ্ধি করা হবে।
পারমাণবিক ইস্যু ও মার্কিন সহায়তা
ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এক চাঞ্চল্যকর দাবি করেন। তিনি বলেন, ইরান নিজেই স্বীকার করেছে যে তাদের হাতে থাকা পারমাণবিক অস্ত্রের মজুদ পুরোপুরি অপসারণ করার প্রযুক্তিগত সক্ষমতা তেহরানের নেই। এই জটিল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে তারা মার্কিন কারিগরি সহায়তা চেয়েছে বলে ট্রাম্প দাবি করেন। তার মতে, শেষ পর্যন্ত ইরান ‘আত্মসমর্পণ’ করতে বাধ্য হবে।
তেহরানের অনড় অবস্থান
অন্যদিকে, ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম এবং আধা-সরকারি সংস্থা ‘তাসনিম’ জানিয়েছে, তেহরান এই জলপথের ওপর তাদের সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো আপস করবে না। তাদের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে:
অবিলম্বে মার্কিন নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার।
ইরানের তেল রপ্তানির ওপর থেকে সকল বিধিনিষেধ অপসারণ।
যুদ্ধের কারণে হওয়া ক্ষয়ক্ষতির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ।
যুক্তরাষ্ট্র মূলত পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘমেয়াদী আলোচনার আগে একটি কার্যকর যুদ্ধবিরতি চেয়েছিল। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে দুই দেশই তাদের অবস্থানে অনড় থাকায় মধ্যপ্রাচ্যের এই রণকৌশলগত জলপথে যুদ্ধের মেঘ আরও ঘনীভূত হচ্ছে।
বিভাগ: আন্তর্জাতিক / রাজনীতি
সূত্র: ফক্স নিউজ, তাসনিম, রয়টার্স (সংগৃহীত সংবাদ অবলম্বনে)
Leave a Reply