
সোহেল খান দূর্জয় | নেত্রকোনা
মনোলোক | ০৭ মে ২০২৬
নেত্রকোনার কলমাকান্দা থানায় চোরাই ভারতীয় প্রসাধনী জব্দের ঘটনায় পুলিশের এক উপপরিদর্শকের (এসআই) সঙ্গে চোরাকারবারির ঘুষ নিয়ে দর-কষাকষির দুটি অডিও ফাঁস হওয়ার পর জেলাজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত এসআই মো. আবু হানিফকে থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। পাশাপাশি কলমাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সিদ্দিক হোসেনকেও বদলি করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, বুধবার রাত ১০টার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে দুটি অডিও ক্লিপ। সেখানে এসআই আবু হানিফের সঙ্গে কথিত চোরাকারবারি জসিম উদ্দিনের ঘুষের অঙ্ক নিয়ে কথোপকথন শোনা যায়। অডিও প্রকাশের পরপরই বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয় এবং পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
জেলা পুলিশ সুপার মো. তারিকুল ইসলাম বলেন,
“অডিওটি নজরে আসার সঙ্গে সঙ্গেই এসআই আবু হানিফকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সজল কুমার সরকারকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার গভীর রাতে উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের রাঙ্গামাটিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি পিকআপ থেকে ১৮ বস্তা ভারতীয় প্রসাধনী জব্দ করা হয়। জব্দকৃত পণ্যের মধ্যে ছিল বডি স্প্রে, শ্যাম্পু, অলিভ অয়েলসহ বিভিন্ন সামগ্রী। এ সময় পিকআপ চালক নাছিম (২৩) ও সহকারী মনির হোসেনকে (২১) আটক করা হয়।
পরে মূল হোতা হিসেবে রাজনগর গ্রামের জসিম উদ্দিনসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়।
ফাঁস হওয়া প্রথম অডিওতে প্রায় ৫ মিনিট ২৩ সেকেন্ড ধরে কথোপকথন শোনা যায়। সেখানে জসিম উদ্দিন এসআইকে ৮০ হাজার টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দিয়ে মামলা না দেওয়ার অনুরোধ করেন। জবাবে এসআই আবু হানিফকে বলতে শোনা যায়, “৩ লাখ টাকা দেন, তারপর কথা হবে।” পরে দর-কষাকষির একপর্যায়ে টাকার অঙ্ক কমিয়ে আনার আলোচনা হয়।
অন্য একটি ৩ মিনিট ১২ সেকেন্ডের অডিওতে এসআইকে বলতে শোনা যায়, “আপনার জন্য ছাড় দিলাম, আড়াই নিয়ে আসেন।” এ সময় জসিম আরও কম টাকায় বিষয়টি মীমাংসার অনুরোধ করেন। কথোপকথনের একপর্যায়ে রেকর্ডিং নিয়ে সতর্কতাও দিতে শোনা যায় ওই পুলিশ কর্মকর্তাকে।
এ বিষয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে অভিযুক্ত এসআই আবু হানিফ ও চোরাকারবারি জসিম উদ্দিনের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
কলমাকান্দা থানার সাবেক ওসি মো. সিদ্দিক হোসেন দাবি করেছেন, ঘটনার সঙ্গে তিনি জড়িত নন। তিনি বলেন,
“বিষয়টি পুলিশ সুপার স্যার দেখছেন। এসআইকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। চোরাই পণ্যের মালিককে আটক করতে অভিযান চলছে।”
ঘটনাটি ঘিরে সীমান্তবর্তী এলাকায় পুলিশের স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতা নিয়ে নতুন করে জনমনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের দিকেই এখন তাকিয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা।
Leave a Reply