
শফিকুল ইসলাম,বিরামপুর (দিনাজপুর) / মনোলোক :
দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার কাটলা ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর এলাকায় কথিত স্বর্ণের বিস্কুট উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা, কৌতূহল ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার পর থেকে উদ্ধার হওয়া স্বর্ণের প্রকৃত অবস্থান নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা ধরনের প্রশ্ন ও গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি অনুযায়ী, ঘটনাস্থলে মোট সাতটি স্বর্ণের বিস্কুট থাকার কথা শোনা গেলেও পরবর্তীতে সেগুলোর অবস্থান নিয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। কেউ বলছেন এগুলো পানিতে ফেলে দেওয়া হয়েছিল, আবার কারও দাবি—পরবর্তীতে সেগুলো তুলে নেওয়া হয়। ফলে “উদ্ধার হওয়া স্বর্ণ আসলে গেল কোথায়”—এ প্রশ্ন ঘুরে বেড়াচ্ছে এলাকাজুড়ে।
অভিযোগ ও স্থানীয়দের বক্তব্য অনুযায়ী, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিরামপুর থানা পুলিশের কয়েকজন সদস্য ঘটনাস্থলে অভিযান চালান। এ সময় সীমান্ত দিয়ে স্বর্ণ পাচারের তথ্যকে কেন্দ্র করে ঘটনাস্থলে উত্তেজনা তৈরি হয় এবং একপর্যায়ে ধস্তাধস্তির ঘটনাও ঘটে বলে জানা যায়। পরে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করলে এলাকায় নতুন করে আলোচনা শুরু হয়।
স্থানীয়দের একাংশের দাবি, কাটলা ইউনিয়নের দক্ষিণ দাউদপুর এলাকার মিরাজ উদ্দিনের ছেলে জামিল ওরফে “মিস্টার”-এর নাম এ ঘটনায় উঠে এসেছে। তবে তিনি বিষয়টি সম্পর্কে নিজেকে জড়িত নয় বলে দাবি করেছেন বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে আরও কয়েকজনের নামও বিভিন্ন সূত্রে আলোচনায় এসেছে, যদিও তারা এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি।
এদিকে পুলিশের অভ্যন্তরীণ ভূমিকা ও অভিযান পরিচালনার প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, সাধারণত থানার কোনো অভিযান অফিসার ইনচার্জের (ওসি) অনুমতি ছাড়া পরিচালিত হওয়ার কথা নয়। ফলে বিরামপুর থানার ওসি এ বিষয়ে কতটা অবগত ছিলেন, তা নিয়েও আলোচনা চলছে।
ঘটনার পর থানার কিছু সদস্যের নাম বিভিন্ন সূত্রে সামনে এলেও তাদের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে একটি তদন্ত কমিটি গঠনের কথা জানা গেছে।
সহকারী পুলিশ সুপার (হাকিমপুর সার্কেল) জানিয়েছেন, প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে দুইজন পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং সাত কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্তে কারও সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোনো সরকারি কর্মকর্তা বা পুলিশ সদস্য যদি উদ্ধারকৃত আলামত গোপন বা যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া সরিয়ে নেওয়ার সঙ্গে জড়িত থাকেন, তবে তা গুরুতর আইন লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
এ ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তারা পুলিশ সদর দপ্তর, রংপুর রেঞ্জ ডিআইজি এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন, যাতে ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটন হয় এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
Leave a Reply