
প্রতিবেদন: মনোলোক ডেস্ক | তারিখ: ১৪ মে, ২০২৬ :
আ
ধুনিক বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রভাবশালী এবং প্রথাবিরোধী লেখক, চিন্তক ও ঔপন্যাসিক আহমদ ছফার কবর মিরপুরের সাধারণ কবরস্থান থেকে বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। লেখকের পরিবারের দীর্ঘদিনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এবং যথাযথ মূল্যায়নের লক্ষ্যে ডিএনসিসির ১৪তম করপোরেশন সভায় এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
ডিএনসিসি সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ১১ জানুয়ারি আহমদ ছফার পরিবারের পক্ষ থেকে তার ভ্রাতুষ্পুত্র নূরুল আনোয়ার কবর স্থানান্তরের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন করেন। আবেদনে উল্লেখ করা হয় যে, বাংলাদেশের শিল্প, সাহিত্য, রাজনীতি ও সমাজসেবার প্রতিটি ক্ষেত্রে আহমদ ছফার অসামান্য অবদান থাকলেও তাকে রাষ্ট্রীয়ভাবে যথাযথ সম্মান প্রদর্শিত হয়নি। তাই তাকে উপযুক্ত মর্যাদা প্রদানের লক্ষ্যে সাধারণ কবরস্থান থেকে সরিয়ে বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে সমাহিত করা প্রয়োজন।
“আহমদ ছফার মহাপ্রয়াণের পর আমাদের প্রাণের দাবি ছিল তাকে মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফন করা, কিন্তু তৎকালীন প্রশাসনের অনীহার কারণে তা সম্ভব হয়নি। বিষয়টি আমাদের মনে দীর্ঘকাল ধরে ক্ষোভ ও বেদনার জন্ম দিয়েছে।” – নূরুল আনোয়ার, আহমদ ছফার ভ্রাতুষ্পুত্র।
গত মাসের ১৩ এপ্রিল ডিএনসিসির করপোরেশন সভায় এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয় এবং সদস্যরা সর্বসম্মতিক্রমে কবর স্থানান্তরের বিষয়ে একমত পোষণ করেন। বর্তমানে ডিএনসিসির সংশ্লিষ্ট বিভাগ সিদ্ধান্তটি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই ও পরবর্তী কার্যক্রম শুরু করেছে।
প্রখ্যাত প্রাবন্ধিক ও শিক্ষক সলিমুল্লাহ খান এই সিদ্ধান্তকে লেখক আহমদ ছফার পরিবার ও শুভানুধ্যায়ীদের দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টার ফসল হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি মনে করেন, এর মাধ্যমে একজন মহান চিন্তকের প্রতি জাতির ঋণ সামান্য হলেও শোধ হবে।
উল্লেখ্য, ১৯৪৩ সালের ৩০ জুন চট্টগ্রামের চন্দনাইশে জন্মগ্রহণ করা আহমদ ছফা বাংলা সাহিত্যের এক ব্যতিক্রমী নাম। তার রচিত ‘বুদ্ধিবৃত্তির নতুন বিন্যাস’ (১৯৭৩) ও ‘বাঙালি মুসলমানের মন’ (১৯৭৬) আজও এদেশের সমাজ- রাজনীতি ও ইতিহাসের গভীর প্রভাবসঞ্চারী রচনা হিসেবে পঠিত হয়। কবিতা, প্রবন্ধ, অনুবাদসহ সাহিত্যের প্রতিটি শাখায় তিনি রেখে গেছেন তার মেধার স্বাক্ষর।
© ২০২৬ মনোলোক নিউজ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Leave a Reply