
আহম্মেদুল কবির, কুড়িগ্রাম : ভারতের নব নির্বাচিত পশ্চিম বাংলার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বাংলাদেশ বিরোধী বিভিন্ন বক্তব্যে দেশব্যাপী চলমান বিরূপ প্রতিক্রিয়ার মধ্যে দেশের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকার মতো কুড়িগ্রাম জেলার সীমান্ত এলাকায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ ( বিজিবি) সীমান্তজুড়ে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থান নিয়েছে।
আজ ১৪ মে বৃহস্পতিবার বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ ( বিজিবি) কুড়িগ্রাম-২২ ব্যাটালিয়ন সীমান্তে অবস্থানের বিষয়টি এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কুড়িগ্রাম-২২ ব্যাটালিয়নের দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে এবং সীমান্তজুড়ে নজরদারি বহুগুণ বৃদ্ধি করা হয়েছে।
যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি ও সীমান্ত অপরাধ মোকাবিলায় নিয়মিত টহলের পাশাপাশি বিশেষ টহল এবং গোয়েন্দা তৎপরতাও বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া ব্যাটালিয়নের প্রতিটি বিওপি (বর্ডার আউট পোস্ট) থেকে দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্নভাবে সীমান্ত টহল কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে বলে জানানো হয়।
কুড়িগ্রাম-২২ ব্যাটালিয়নএর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ মাহবুব-উল-হক জানান, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা, সীমান্ত চোরাচালান প্রতিরোধ এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ দমনে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নে বিজিবি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
অপরদিকে কুড়িগ্রাম জেলার উত্তরে ভূরুঙ্গামারী- নাগেশ্বরী উপজেলা এবং উত্তর- পূর্বে অংশে লালমনিরহাট জেলার অধীন কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ি উপজেলার সীমান্ত এলাকার উপজেলা প্রতিনিধিদের দেয়া তথ্যে জানা যায়, কুড়িগ্রাম -২২ ব্যাটালিয়ন, ওদিকে জেলার রৌমারী সীমান্তে জামালপুরের- ৩৫ ব্যাটালিয়ন এবং ওপর প্রান্তে লালমনির হাট জেলার- ১৫ ব্যাটালিয়ন যৌথভাবে তিন জেলার সমস্ত সীমান্ত এলাকায় নজরদারি জোরদার করেছে। বিশেষ করে অবৈধ অনুপ্রবেশ, নাশকতা, চোরাচালান ও সীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধে সীমান্তজুড়ে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বিজিবি।
এ ব্যাপারে জামালপুর- ৩৫ ব্যাটলিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসানুর রহমান এবং লালমনিরহাট- ১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক সীমান্তের গুরুত্বপূর্ণ এলাকা গুলোতে বিজিবির টহল জোরদার করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। পাশাপাশি তারা স্থানীয় জনগণকেও সচেতন থাকার আহ্বান জানান।
সীমান্ত এলাকার স্থানীয়রা বলেন, এক শুভেন্দু অধিকারীর উস্কানীমূলক বক্তব্যে বাঙালি ভয় পায় না। কোন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার সৃষ্টি করা হলে আমরাও আমাদের সীমান্ত বাহিনীর সঙ্গে আছি, সকল অপকর্ম রুখে দেব ইনশাল্লাহ। তারা বাংলাদেশের পক্ষে ভারত বিদ্বেষি কোন কথাবার্তা না বলার জন্য সকলকে অনুরোধ জানান।
বিজিবির পক্ষে বলা হয়, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবি সদস্যরা দিনরাত দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। বিজিবি স্থানীয়দের সীমান্ত আইন মেনে চলার জন্য সকলকে সবসময় সচেষ্ট থাকার আশা ব্যক্ত করছেন।
বিজিবি সূত্র জানায়, লালমনিরহাটের সঙ্গে ভারতের প্রায় ৩৬০ দশমিক ১১ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। অন্যদিকে কুড়িগ্রামের সঙ্গে ভারতের সীমান্ত রয়েছে প্রায় ২৭৮ দশমিক ২৮ কিলোমিটার। দেশের সীমান্ত সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ প্রতিরোধে কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট এবং জামালপুর সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থান গ্রহণ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
Leave a Reply